‘পাহাড়ের উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’, জিটিএ ফাইল খুলবে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে পাহাড়ে একাধিকবার এসেছেন শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর মঙ্গলবার তাঁর প্রথম পাহাড় সফর। এদিন তিনি কার্শিয়াং পাহাড়ে জনকল্যাণ শিবিরে অংশ নেন। জনসভা করেন। মুখ্যমন্ত্রীর প্রথম সফর নিয়ে পুলিশ ও প্রশাসন নিরাপত্তা নিয়ে তটস্থ ছিল। এখানে পা রেখেই মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, ১ জুলাই থেকে জি রামজি প্রকল্পের কাজ, কালিম্পংয়ে মেডিক্যাল কলেজ, পুলিশে দ্রুত নিয়োগ হবে। একইসঙ্গে গোর্খা টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ) দুর্নীতি নিয়ে হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

এদিকে মঙ্গলবার পাহাড়ে সমস্ত রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীকে যৌথভাবে সংবর্ধনা জানানো হয়। সর্বদলীয় এই অভ্যর্থনায় আপ্লুত মুখ্যমন্ত্রী কার্শিয়াংয়ের জনসভা থেকে স্পষ্টভাষায় বলেন, ‘পাহাড়ে সব দলের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা পেলাম। এবার ডবল ইঞ্জিন সরকারের আসল সুফল পাবেন পাহাড়ের মানুষ। কেন্দ্রের সমস্ত থমকে থাকা প্রকল্প এবার পাহাড়ে সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হবে। উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের জন্য একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। পাহাড় দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির অন্যতম সঙ্গী। পাহাড়ের সমস্ত এলাকার মহিলারা অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাবেন। পাহাড়বাসীর প্রত্যাশা পূরণে রাজ্য সরকার কাজ করবে এবং প্রায় সাড়ে ৬ কোটি মানুষ আয়ুষ্মান প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।’

অন্যদিকে এবার কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যৌথ প্রচেষ্টায় পাহাড়ে দ্রুত উন্নতি হবে বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। দার্জিলিং, কার্শিয়াং এবং কালিম্পং— তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রই এখন বিজেপির দখলে। দার্জিলিং লোকসভা আসনটিও দীর্ঘ সময় ধরে বিজেপির অধীনে রয়েছে। এখানেই মুখ্যমন্ত্রী পাহাবাসীকে জানিয়ে দেন, ‘পাহাড়ের উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, উন্নতির রোড ম্যাপ তৈরি। এখানে ঘুরতে নয়, কাজ করতে আসি। ধীরে ধীরে সব হবে। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার মিলে এই কাজ করবে। আপনারা নিশ্চিত থাকুন। ১ জুলাই থেকে পাহাড়বাসীরা ১২৫ দিনের কাজের সুযোগ পাবেন। পাহাড়ে শিক্ষক নিয়োগে কোনও দুর্নীতি হবে না এবং শীঘ্রই পুলিশে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে। পুলিশ বিভাগে পাহাড়ের যুবক-যুবতীরা চাকরির সুযোগ পাবেন। কালিম্পংয়ে মেডিক্যাল কলেজ তৈরি হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের ‘খেলো ইন্ডিয়া, জড়ো ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের অধীনে খেলার জন্য পরিকাঠামো উন্নয়ন করা হবে। স্টেডিয়াম থেকে অন্যান্য উন্নয়নে জোর দেওয়া হবে।’


এছাড়া জিটিএ দুর্নীতি নিয়ে হুঁশিয়ারি দেন শুভেন্দু অধিকারী। আগে এই রাজ্যে নেগেটিভ সরকার ছিল। নিয়োগ করা হয়নি ঠিকমতো। জিটিএ’র মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। তবে বিজেপি সরকারের আমলে যে তা হবে না বলে দাবি করেন শুভেন্দু অধিকারী। আর তারপরই মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বক্তব্য, ‘না খাউঙ্গা, না খানে দুঙ্গা। সমস্ত দুর্নীতির তদন্ত হবে। কাউকে ছাড়া হবে না। সব নিয়োগ হবে স্বচ্ছতার সঙ্গে। আগের মুখ্যমন্ত্রী শুধুমাত্র পর্যটক হিসাবে পাহাড়ে ঘুরে যেতেন। কিন্তু আমি এখানে পর্যটক হিসাবে আসিনি। কাজ করতে এসেছি। পাহাড়ের জনজাতি সম্প্রদায়ের জন্য রেশনে বিশেষ ভর্তুকি এবং বিদ্যুতে ভর্তুকি মিলবে। পাহাড়ের মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে সরকারের সব প্রকল্পকে পাহাড়বাসীর দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হবে। যা বলব, তাই করব— এটাই আমার অঙ্গীকার। যখনই দেশ ভাঙার চক্রান্ত হয়েছে, তখনই পাহাড়ের বীরেরা রুখে দাঁড়িয়েছেন। দেশ রক্ষায় পাহাড়ের শহিদ সেনানীদের আমার প্রণাম।’