নিষিদ্ধ কাশির সিরাপের উপর রোলার চালালেন মুখ্যমন্ত্রী, ২ লক্ষ শিশি ভাঙতে সঙ্গী সুকান্ত

CM Suvendu Adhikari-MP Sukanta Majumder Photo-SNS

রাজ্য থেকে নেশামুক্তি ঘটাতে হবে। যুবসমাজ যেন নেশায় ডুবে না যায়। ক্ষমতায় এসে এই বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে সেটা যে শুধু মুখের কথা নয় তা বুধবার নিজে হাতেই তা করে দেখালেন মুখ্যমন্ত্রী। নেশামুক্তির বার্তা দিতে এদিন রোলার চালালেন মুখ্যমন্ত্রী। উদ্ধার হওয়া হাজার হাজার বেআইনি মদের বোতল এতদিন রোলার চালিয়ে ভাঙতে দেখা যেত আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মাকে। এবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকেও দেখা গেল একই ভূমিকায়। ভাঙা হলো নেশার নিষিদ্ধ দ্রব্য ফেনসিডিলের ২ লক্ষ শিশি। এই শিশি ভাঙার কাজে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গী ছিলেন বালুরঘাটের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।

২০২৯ সালের মধ্যে ‘নেশামুক্ত ভারত’ গড়ে তোলার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। তরুণ প্রজন্মকে নেশা থেকে দূরে থাকতে পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘ক্ষণিকের নেশা গোটা জীবনকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে পারে।’ বুধবার বালুরঘাটে দাঁড়িয়ে তরুণদের উদ্দেশে নেশামুক্তির ডাক দিলেন শুভেন্দু অধিকারীও। নিষিদ্ধ কাশির সিরাপের উপর রোলার চালিয়ে বলেন, ‘আমার কর্মসূচির প্রথম বার্তা হলো, যুবসমাজকে নেশা থেকে বের করে আনতে হবে।’ রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাজুড়ে গত চার মাস দরে যেসব নেশার দ্রব্য বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল সেই সবই রোলার চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

রোড রোলার চালিয়ে নেশার দ্রব্য গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা একেবারে নতুন নয়। আগে গুজরাত অথবা বিহারে রোলার দিয়ে মদের বোতল গুঁড়িয়ে দিতে দেখা গিয়েছে। বুধবার সেই একই পথে হাঁটলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। এদিন দুপুর ৩টে নাগাদ বালুরঘাটে পুলিশ সুপারের অফিসের সামনে রোড রোলারে চড়েন মুখ্যমন্ত্রী এবং সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। দু’জনেই মাথায় হেলমেট পরেছিলেন। রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ও উপস্থিত ছিলেন সেখানে। তবে রোড রোলারে ওঠেননি স্বাস্থ্যমন্ত্রী। ওখানে সাজিয়ে রাখা কাশির সিরাপের বোতলগুলির একটি অংশের উপর দিয়ে রোড রোলার চালান শুভেন্দু অধিকারী। ভেঙে গুঁড়িয়ে যায় সেসব শিশি। তারপর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যে নেশামুক্ত ভারত অভিযান চালাচ্ছেন সেটা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক এবং সময়োপযোগী। আমরা সরকারে আসার পরে এমন প্রচুর নেশার দ্রব্য বাজেয়াপ্ত করেছি। দক্ষিণ দিনাজপুরে বাংলাদেশ সীমান্তের আগে পুলিশ-বিএসএফের মধ্যে কোনও সমন্বয় ছিল না। কারণ বিএসএফকে শত্রুপক্ষ হিসেবে দেখা হতো। গত চার মাসে যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ নেশার দ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। ২ লক্ষ ফেনসিডিল ধ্বংস করলাম। এটা প্রতীকী।’


তাছাড়া মুখ্যমন্ত্রী এদিন স্পষ্ট বার্তা দেন, যাঁরা নেশার দ্রব্যের কারবারে জড়িত থাকবেন তাঁদের আইন মেনে বছরের পর বছর জেলে থাকতে হবে। বালুরঘাটে মেডিক্যাল কলেজ গড়ে তোলা হবে বলেও জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে এটিই শুভেন্দু অধিকারীর প্রথম বালুরঘাট সফর। জেলায় ঠাসা কর্মসূচি রয়েছে তাঁর। প্রশাসনিক কর্মসূচিও রয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর। বালুরঘাট বিমানবন্দর পরিদর্শনও করেন তিনি।