বামফ্রন্ট সরকারের আমলে শিল্প-কলকারখানা বন্ধ হয়েছিল। তারপর তৃণমূল আমলেও বড় কোনও শিল্প গড়ে ওঠেনি। বরং টাটা গোষ্ঠীকে তাড়ানো হয়েছিল সিঙ্গুর থেকে। তাই পশ্চিমবঙ্গের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। যা এখনও পূরণ হয়নি। এবার রাজ্যে শিল্প এলেই শিল্প-বিরোধী তকমা ঘুচে যাবে বলে মনে করেন বিজেপির মন্ত্রীরা। তাই ক্ষমতায় এসেই রাজ্যে শিল্প এবং লগ্নি টানতে লাগাতার চেষ্টা করে চলেছে বিজেপি সরকার। একাধিকবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী থেকে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য শিল্প নিয়ে নানা বার্তা দিচ্ছেন। এই আবহে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে নবান্নে এসে দেখা করলেন শিল্পপতি সঞ্জীব গোয়েঙ্কা।
সিইএসসি’র কর্ণধারের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ বৈঠক হয় মুখ্যমন্ত্রীর। সেখানে রাজ্যে নয়া বিনিযোগ নিয়ে কথা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। এখানের আলোচনায় উঠে আসে পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের অন্যতম প্রধান শিল্প-বৃদ্ধির চালিকাশক্তি হিসেবে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করা। আর তার লক্ষ্যে রাজ্যের উন্নয়নের যাত্রা এবং শিল্প-ভাবমূর্তিকে শক্তিশালী করা, বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগগুলির ওপর কেন্দ্র করে বৈঠক হয়েছে। এই রাজ্যের প্রয়োজনীয় মেধা, ইতিহাস, পরিকাঠামো এবং উদ্যোক্তাসুলভ মানসিকতা রয়েছে। তবে সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে প্রয়োজন বিনিয়োগকারীদের আস্থা এবং সরকার ও শিল্পের মধ্যে একটি গঠনমূলক অংশীদারিত্ব। সেটাতেই এবার কাজ করবে গোয়েঙ্কা গোষ্ঠী বলে জানা গিয়েছে।
বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন শিল্পপতি সঞ্জীব গোয়েঙ্কা। সূত্রের খবর, রাজ্যে আরও বেশি বিনিয়োগ করতে চায় গোয়েঙ্কা গোষ্ঠী। সেই ইচ্ছে নিজের মুখে জানিয়ে গেলেন সঞ্জীব গোয়েঙ্কা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে বলে সূত্রের খবর। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং সঞ্জীব গোয়েঙ্কা ‘বিকশিত বাংলা’ গড়ে তোলার এক যৌথ লক্ষ্য ও ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। ২২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে গোয়েঙ্কা পরিবার বাংলার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। অর্থনৈতিক পরিস্থিতির নানা উত্থান-পতনের মধ্যেও তারা রাজ্য ছেড়ে না গিয়ে এখানেই বিনিয়োগ ও পরিকাঠামো গড়ে তোলার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে চলেছে। এখন সঞ্জীব গোয়েঙ্কা পূর্ব ভারতের অন্যতম বিশিষ্ট শিল্পপতি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
তাছাড়া মুখ্যমন্ত্রীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে সঞ্জীব গোয়েঙ্কার সঙ্গে সাক্ষাতের কথা জানানো হয়েছে। রাজ্যের বিদ্যুৎক্ষেত্রে গোয়েঙ্কাদের বড় বিনিয়োগ রয়েছে। কলকাতা ও শহরতলি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে তাঁরই সংস্থা। এখন রাজ্যে রাজনৈতির পালাবদলের পর বিনিয়োগ আরও বাড়াতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন সঞ্জীব গোয়েঙ্কা। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার পর সঞ্জীব গোয়েঙ্কা জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গে শিল্পবান্ধব পরিবেশের দিকে নজর আছে। বিনিয়োগের ভাল পরিসর রয়েছে। তাই বিদ্যুৎক্ষেত্র ছাড়াও অন্যান্য ক্ষেত্রে আরও বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা আছে। শিল্পপতির কথায়, ‘পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এবং রাজ্যের উন্নয়নের জন্য তাঁর দূরদর্শী পরিকল্পনা শুনে আমি আনন্দিত। একটি বিকশিত পশ্চিমবঙ্গের জন্য তাঁর স্বপ্ন অনুপ্রেরণাদায়ক এবং দূরদর্শী। একইভাবে প্রশংসনীয় হলো তাঁর কর্মশক্তি, উৎসাহ এবং ক্ষুদ্রতম বিষয়েও তাঁর সূক্ষ্ম মনোযোগ। পশ্চিমবঙ্গের অগ্রগতির যাত্রা এবং রাজ্যের শিল্প বাতাবরণকে আরও শক্তিশালী করার, বেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করার, কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। অগ্রগতির এই যৌথ যাত্রায় অবদান রাখার জন্য আমি উন্মুখ হয়ে আছি।’