‘অনেকে চায় পুজোর আনন্দ নষ্ট করতে’, মুর্শিদাবাদ থেকে আগাম সতর্কবার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

CM Suvendu Adhikari Photo-SNS

মহাপঞ্চমীতে মুর্শিদাবাদে দুর্গাপুজোর উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। লালবাগের বুধাসপাড়া সর্বজনীন উদ্বোধন করেন তিনি। উত্তরপ্রদেশের কীর্তি মন্দিরের ধাঁচে তৈরি করা হয়েছে এই পুজোমণ্ডপ। আর এখান থেকেই আগাম  সতর্কবার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। দুর্গাপুজোর আনন্দ অনেকে নষ্ট করতে চায় বলে তাঁর দাবি। তাই আগে থেকে পুলিশ ও পুজো উদ্যোক্তাদের সতর্ক থাকতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে কেমনভাবে তা সম্ভব সে বিষয়ে খোলসা করেননি তিনি। বিজেপি সরকারের নাম ডোবাতে এমন কিছু করা হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রীর এই সতর্কবার্তা শোনার পর থেকেই পুলিশ অ্যালার্ট হয়ে গিয়েছে। কলকাতা পুলিশ অনেক আগে থেকেই অ্যালার্ট হয়ে রয়েছে। জেলা পুলিশ আরও বেশি করে শুরু করে দিল তৎপরতা। এদিন দুর্গাপুজোর উদ্বোধনের পর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই জেলার উন্নয়নে অনেক কাজের পরিকল্পনা রয়েছে। সীমান্ত এলাকা মুর্শিদাবাদে সরকার বদলের পর পশ্চিমবঙ্গে পাচার কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে। অনেকে দুর্গাপুজোর আনন্দ নষ্ট করতে চায়। তাই আগে থেকে পুলিশ এবং পুজো উদ্যোক্তাদের সতর্ক থাকতে হবে। মুর্শিদাবাদে নতুন করে ৮০০-র বেশি নতুন পুজো অনুমোদন পেয়েছে। সাবধানে সকলকে দুর্গাপুজো করতে হবে।’

‘স্পর্শকাতর’ মুর্শিদাবাদ থেকে শুভেন্দু অধিকারীর এই বার্তা তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী বৃহস্পতিবার জানান, সম্প্রতি জেলার দুটি দুর্গাপুজো মণ্ডপে দুর্ঘটনা বা অন্য কোনও কারণে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। এখন ওই ঘটনার তদন্ত চলছে। তাই আগে থেকে এই নিয়ে পুলিশ এবং পুজোর উদ্যোক্তাদের সতর্ক করে তিনি জানান, অনেকে চায় পুজোর আনন্দ নষ্ট করতে। আবার দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে। তাই সতর্ক থাকতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, ‘রাজ্যে অনুপ্রবেশ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। পরিবর্তনের সরকার আসার পর রাজ্যে ১৩ হাজার নতুন পুজো হচ্ছে। আগেরবার পর্যন্তও ৪৫ হাজার পুজো হয়েছে। এবার ৫৮ হাজার দুর্গাপুজো হচ্ছে। মুর্শিদাবাদেও ৮০০-র বেশি দুর্গাপুজো হচ্ছে।’


তাছাড়া দুর্গাপুজোর উদ্বোধনে এসে মুর্শিদাবাদের জন্য একাধিক ‘উপহার’ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, ‘জেলার বেকার যুবকরা এবার চাকরি পাবেন। গঙ্গাভাঙন রুখতে কাজ খুব শীঘ্রই শুরু হবে। আগামী ২৭ অক্টোবর এই নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে বৈঠক আছে। লালবাগের একটি ঝিলও সংস্কার করা হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা উন্নয়নে আরও কাজ হবে। বিএসএফ, পুলিশ জেলায় একসঙ্গে কাজ করছে। কোনও অবৈধ অনুপ্রবেশ ঘটবে না। গরুপাচার, নেশাসামগ্রী পাচার এখন প্রায় বন্ধ। মুর্শিদাবাদ লাগোয়া সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার কাজ চলছে। যে কলেজ আছে সেখানে মর্নিং শুরু করতে হবে। অধ্যাপকের অভাব হবে না। উন্নয়নে অর্থ বাধা হবে না। এই কাজগুলি ডিসেম্বর মাসের মধ্যে করতে হবে।’