রিম্বিতে ভয়াবহ ধস, গৃহহীন ৫০টিরও বেশি পরিবার, ত্রাণ ও পুনর্বাসনের আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

Sikkim Landslide Photo-ANI

সিকিমে প্রাকৃতিক দুর্যোগের জেরে ভয়াবহ ধসের সাক্ষী থাকল পাহাড়ি রাজ্যটি। টানা দিন-রাত অঝোরে বৃষ্টির জেরে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ভোররাতে পশ্চিম সিকিমের গ্যালশিং জেলার ইউকসাম-তাশিডিং সমষ্টির অন্তর্গত রিম্বি গ্রামে নামে এক প্রলয়ের মতো ধস। পাহাড়ের উপরের ঢাল থেকে বিপুল পরিমাণ কাদা, পাথর এবং ধ্বংসাবশেষ ধেয়ে এসে মুহূর্তের মধ্যে ভাসিয়ে নিয়ে যায় বসতি এলাকা। প্রাথমিক খবরে জানা গেছে, এই ঘটনায় অন্তত ৫০টি পরিবার সম্পূর্ণ গৃহহীন হয়ে পড়েছে এবং সরকারি আবাসন-সহ বহু ঘরবাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে খবর, ধসের ধ্বংসাবশেষ ও কাদা নিচে নেমে আসায় গোটা গ্রামে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে স্থানীয় সাংবাদিক সুরজ সুব্বাও রয়েছেন। যাঁর সদ্যনির্মিত বাড়ি ধসের পেটে চলে গিয়েছে। ছোট থেকে গড়ে তোলা বাড়িঘর, স্মৃতি এবং সারা জীবনের সঞ্চয় চোখের সামনে ধূলিসাৎ হয়ে যাওয়া দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলি থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে।

এই ঘটনার পর পরই দুর্গত মানুষদের স্থায়ী নিরাপত্তা, খাদ্য, জরুরি ত্রাণ ও পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসনের দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে এলাকা কতটা বিপজ্জনক তা খতিয়ে দেখে তবেই সাধারণ মানুষকে পুনরায় সেখানে ফেরানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই পরিস্থিতির উপর সজাগ দৃষ্টি রাখছেন সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং। এক বার্তায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রিম্বি গ্রামের এই কঠিন পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকার আক্রান্ত প্রতিটি পরিবারের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট সমস্ত দপ্তর ও প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার।’ তিনি সাধারণ মানুষকে সরকারি নির্দেশিকা মেনে চলার এবং এই প্রাকৃতিক দূর্যোগের সময় একে অপরের পাশে থাকার আহ্বান জানান।


এখন ধস কবলিত এলাকায় প্রশাসনিক উদ্ধারকাজ ও ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ জারি রয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ করতে জেলা প্রশাসনের একটি বিশেষ টিম সরজমিনে কাজ করছে। তবে টানা বৃষ্টি চলতে থাকায় নতুন করে আবার ধস নামার আতঙ্ক তাড়া করে বেড়াচ্ছে রিম্বির বাসিন্দাদের।