অজিত পাওয়ারের প্রয়াণে দিল্লি যাত্রা স্থগিত করলেন মুখ্যমন্ত্রী

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের মৃত্যুতে শোকাহত মুখ্যমন্ত্রী বুধবার দিল্লি যাত্রা স্থগিত রাখলেন তিনি। বুধবার সিঙ্গুরে সভা শেষ করে দিল্লি যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। বিমান দুর্ঘটনায় মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রীর মৃত্যুর খবর আসতেই জাতীয় রাজনীতিতে শোকের ছায়া নেমে আসে। ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেন তিনি। এই অবস্থায় এদিন দিল্লি যাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে  বৃহস্পতিবার যেতে পারেন বলে জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সিঙ্গুরে যাওয়ার আগে এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই তিনি এ কথা জানান। এসআইআর আবহে মুখ্যমন্ত্রীর দিল্লি সফর ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে। বর্তমান পরিস্থিতির প্রতিবাদ জানাতেই দিল্লি যাবেন বলে জানিয়েছিলেন মমতা। বৃহস্পতিবার দিল্লি গেলে সেখানে তাঁর কী কর্মসূচি হবে, তা নিয়ে এখনও কিছু জানা যায়নি। শনিবার প্রতিবাদ কর্মসূচি থাকবে বলে খবর। দিল্লি সফরে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানাতে যাবেন না কি প্রতিবাদে ধরনায় বসবেন সে বিষয়েও কিছু স্পষ্ট নয়।

এসআইআর নিয়ে রাজ্যে যা চলছে, তা সর্বভারতীয় স্তরে তুলে ধরাই মমতার দিল্লি সফরের উদ্দেশ্য। এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বার বার প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে এসআইআর সংক্রান্ত নানা বিষয় নিয়ে একাধিক চিঠিও লিখেছেন। ৪ নভেম্বর থেকে বাংলার বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনুমারেশন ফর্ম বিলি করা শুরু হয়।


ওই দিনই কলকাতার রাস্তায় মিছিলে হেঁটেছিলেন মমতা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পর থেকে ধারাবাহিক ভাবে মমতা, অভিষেক ছাড়াও তৃণমূল দলগত ভাবে এসআইআরের বিরোধিতা করেছে। দিল্লি গিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখাও করেন অভিষেক। এসআইআর-এর আতঙ্কে সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কাজের চাপে অনেক বিএলও-রও মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। এই পরিস্থিতিতে মমতার দিল্লি সফরে ছিল ‘এসআইআর আতঙ্কে’ মৃতদের পরিবারের অনেকের থাকার কথা ছিল বলে সূত্রের খবর।

মমতার অভিযোগ, কোনও পরিকল্পনা ছাড়াই পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর শুরু করেছে কমিশন। কমিশন খসড়া ভোটার তালিকায় এমন অনেককে ‘মৃত’ বলে দেখানো হয়েছে, যাঁরা আদতে বেঁচে রয়েছে বলে অভিযোগ তৃণমূলের। সম্প্রতি জেলায় জেলায় সভার ‘র‌্যাম্পে’ ‘ভূতেদের’ হাঁটিয়েছিলেন অভিষেক। তিনি দাবি করেন, খসড়া তালিকায় তাঁদের প্রত্যেককে ‘মৃত’ দেখানো হয়েছে। সূত্রের খবর, সেই সব ভোটারেরাও মমতার দিল্লি সফরের সঙ্গী হওয়ার কথা ছিল।

দিল্লিযাত্রার আগে জাতীয় স্তরে জোট-ঐক্যের বার্তা দিতে নবান্নে এসেছিলেন অখিলেশ যাদব। অখিলেশের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। আইপ্যাক কাণ্ডে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমর্থন জানিয়েছেন তিনি। অখিলেশ বলেন, ‘দিদির কাছে ইডি হেরেছে। এবার বিজেপি হারবে। গোটা দেশে বিজেপির মোকাবিলা করতে পারেন একমাত্র দিদি।‘ সেই প্রেক্ষাপটে দিল্লির এই সফর গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় দেড়বছর পর মুখ্যমন্ত্রী দিল্লি যাচ্ছেন।