আবারও খবরের শিরোনামে আরজি কর। এবার আরজি কর হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক সিআইএসএফ জওয়ানের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল। অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে আসা এক রোগীর মেয়েকে হোটেলে ডেকে ধর্ষণ করেছেন ওই জওয়ান। তবে শুধু ধর্ষণ নয়, ধর্ষণের ভিডিও রেকর্ডিং করে ওই তরুণীকে রীতিমতো ব্ল্যাকমেলও করেন তিনি। ধর্ষণের ভিডিও ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ওই জওয়ান তরুণীকে আরও দু’বার ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ। জওয়ানের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে শেষপর্যন্ত পুলিশের দ্বারস্থ হন নির্যাতিতা। তাঁর লিখিত অভিযোগ পেয়েই আসরে নামে বিধাননগর কমিশনারেটের অধীন নারায়ণপুর থানা। গ্রেপ্তার করা হয় অভিযুক্ত জওয়ানকে। ইতিমধ্যেই নারায়ণপুর থানার তরফে বিষয়টি জানানো হয়েছে সিআইএসএফ-এর শীর্ষ কর্তাদের।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত জওয়ানের নাম পারুল আহমেদ। তিনি আরজি কর হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। নিউটাউনের বাসিন্দা ওই তরুণীর মায়ের চিকিৎসা চলছিল আরজি করে। সেই সূত্রেই নির্যাতিতার সঙ্গে অভিযুক্ত জওয়ান পারুলের পরিচয়। নিরাপত্তারক্ষীর পোশাক দেখে স্বাভাবিকভাবেই ভয় পাননি তরুণী। পরিচয়ের পর ক্রমেই তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্ব ও প্রেম গড়ে ওঠে। প্রেমের ফাঁদ পেতে তরুণীকে বিয়ের প্রস্তাবও দিয়েছিলেন ওই জওয়ান। দেখা করার জন্য ডেকে পাঠিয়েছিলেন চিনার পার্কের এক হোটেলে। এরপরই বেরিয়ে আসে পারুলের আসল চেহারা। ওই হোটেলে ডেকে তরুণীর উপর নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ। পরে ভয় দেখিয়ে ফের তাঁকে ধর্ষণ করা হয় বলে জানিয়েছেন নির্যাতিতা। ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য চিনার পার্ক সংলগ্ন ওই হোটেলের বিছানার চাদর এবং অভিযুক্তের ইউনিফর্ম বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
২০২৪ সালে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে অভয়া কাণ্ড ঘটার পরেই উত্তাল হয়েছিল গোটা বাংলা। তার আঁচ ছড়িয়ে পড়েছিল দেশ থেকে শুরু করে বিদেশেও। ন্যায় বিচারের দাবিতে হয়েছিল রাত দখলও। তাতে সামিল হয়েছিলেন টলি তারকা থেকে শুরু করে আমজনতাও। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষজন ন্যায়বিচার চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই সময়ে তৎকালীন সরকারের পুলিশ গ্রেফতার করেছিল সঞ্জয় রায়কে। তাকেই একমাত্র দোষী হিসেবে সকলের সামনে আনা হয়েছিল। কিন্তু তা নিয়েও রয়েছে বিতর্ক। কারণ অনেকের দাবি একা সঞ্জয় এই কাজ করতে পারে না। অন্যদের আড়াল করার জন্যই তাকে সামনে আনা হয়েছে। যদিও সেই ঘটনা নিয়েও চলছে তদন্ত।