আবার বন্ধ থাকবে চিংড়িঘাটা উড়ালপুল। মেট্রোর কাজের জন্য চিংড়িঘাটা উড়ালপুলে যান নিয়ন্ত্রণ করা হবে। নিউ গড়িয়া-বিমানবন্দর মেট্রো করিডরের কাজের জেরে চিংড়িঘাটা উড়ালপুলে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। ১০ জুলাই থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হবে এই ব্যস্ততম উড়ালপুল। কলকাতা ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মোট তিনদিন যান চলাচল বন্ধ থাকবে। কদিন আগে জুলাই মাসের শুরুতে উড়ালপুলে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে সেই সিদ্ধান্ত স্থগিত হয়ে যায়। এবার মেট্রোর কাজের জন্য কবে বন্ধ থাকবে উড়ালপুল? সেটার নতুন তারিখ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে মেট্রোর বাকি কাজ কবে হবে? সেটা নিয়েও কৌতূহল ছিল রাজ্যবাসীর মনে। এবার সেই সূচিই ঘোষণা করল কলকাতা পুলিশ। কলকাতা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। ওই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, মেট্রোর অরেঞ্জ লাইনে সেগমেন্ট লঞ্চের কাজ রয়েছে। তাই চিংড়িহাটা উড়ালপুলে যান চলাচল বন্ধ থাকবে। ১০ জুলাই শুক্রবার রাত ৮টা থেকে ১৩ জুলাই সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ থাকবে। চিংড়িহাটা উড়ালপুল দিয়ে উত্তরমুখী যান চলাচল কোন দিক দিয়ে করবে, সেটাও উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে বিশ্ববাংলা সরণিতে সুকান্ত নগরের কাছে পিলার ৩২৬ থেকে পিলার ৩২৭-এর মধ্যে মেট্রোর বাকি কাজ চলবে। তাই কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে জনগণের উদ্দেশে জানানো হয়েছে, উড়ালপুলে যান চলাচলের কথা মাথায় রেখেই যাত্রীদের নিজেদের কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। উত্তর দিকে যাতায়াতকারী সমস্ত যানবাহনকে এই দিনগুলিতে বেলেঘাটা মেন রোড এবং ইএম বাইপাস ক্রসিং ধরে ব্রডওয়ের দিকের রাস্তা ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।
তাছাড়া চিংড়িহাটা উড়ালপুল দিয়ে যাঁরা সল্টলেকে যাবেন, তাঁরা বেলেঘাটা মেইন রোড ও বাইপাস ক্রসিং থেকে ব্রডওয়ে হয়ে সল্টলেক যেতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে। আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে কবি সুভাষ থেকে নিউটাউন পর্যন্ত মেট্রো পরিষেবা চালু করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেট্রো কর্তৃপক্ষ। তাই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চলছে এই করিডরের নানা অংশে। তাই দ্রুতগতিতে কাজ শুরু করেছে আরভিএনএল। এবার অন্তিম পর্যায়ের কাজ শেষ হতে চলেছে বলে খবর। এবারের রাজ্য বাজেটে চিংড়িঘাটা নিয়ে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত ঘোষণা করেছিলেন, দিনের ব্যস্ত সময়ে ওই রাস্তা পার করতে অনেক সময় নষ্ট হয় যাত্রীদের। নিউটাউন অঞ্চলের সঙ্গে মধ্য কলকাতার যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল রয়েছে। প্রায় ৯০০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ৭.৪১ কিমি দীর্ঘ চিংড়িঘাটা-নিউটাউন এলিভেটেড করিডর করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এই করিডরটি ইএম বাইপাস এবং সল্টলেক সেক্টর ফাইভকে যুক্ত করবে এবং যানজট কমিয়ে নিউটাউনের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটাবে।