ভোটের আগে সরকারি কর্মীদের কড়া বার্তা মুখ্যসচিবের

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারি কর্মীদের ভূমিকা নিয়ে কঠোর অবস্থান নিল প্রশাসন। মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা রাজ্যের সব জেলাশাসক ও জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কোনও সরকারি কর্মী সরাসরি বা পরোক্ষভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি প্রয়োজন হলে এফআইআর দায়েরের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

রাজ্যে আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল ভোট গ্রহণ কর্মসূচি আয়োজিত হবে। আর এবারের নির্বাচনকে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ করতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সরকারি কর্মীরা যাতে প্রভাবমুক্ত, ভয়মুক্ত হয়ে কাজ করে সেই বার্তাও শহরে এসে দিয়েছে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে কমিশনের ফুলবেঞ্চ। আর এরই মধ্যে সরকারি কর্মীদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করায় এই কড়া বার্তা পাঠানো হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

মুখ্যসচিবের দেওয়া এই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, যদি কোনও সরকারি কর্মী রাজনৈতিক কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত থাকে, আর তার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মীর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ আনা হবে। পাশাপাশি আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হবে। নির্বাচন চলাকালীন প্রশাসনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

এছাড়াও অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে আটটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। তার মধ্যে ভোটারদের ভয় দেখানো, প্রলোভন দেখানো, ছাপ্পা ভোট, বুথ দখল বা বুথ জ্যামিংয়ের মতো অনিয়ম কঠোরভাবে রুখতে বলা হয়েছে। কোনোভাবেই যাতে ভোটারদের বুথে যেতে বাধা দেওয়া না হয়, তাও নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এই কড়া অবস্থান থেকে স্পষ্ট, নির্বাচন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ রাখতে এবার কোনোরকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না।