রাজ্যে বিজেপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার গঠনের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। ৮ মে, শুক্রবার সন্ধ্যায় বিজেপি বিধায়কদের বৈঠক রয়েছে। তার পরদিন, ৯ মে অর্থাৎ ২৫ বৈশাখ ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হবে। এই প্রস্তুতি নিয়েই রাজ্যের মুখ্যসচিবের সঙ্গে বৈঠক করতে নবান্নে যান বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
নবান্নে প্রবেশের আগে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, ভোট-পরবর্তী হিংসা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। পাশাপাশি তিনি বলেন, বিজেপির মধ্যে ‘তৃণমূলীকরণ’ হতে দেওয়া হবে না এবং দলবদল করে আসা নেতাদের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। এদিন তাঁর সঙ্গে ছিলেন সুনীল বনশল, জ্যোতির্ময় মাহাতো এবং সৌমিত্র খাঁ। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালার সঙ্গে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করা। মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেই সঙ্গে থাকবেন ২০টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। যদিও মুখ্যমন্ত্রী পদে কে বসবেন, তা নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেনি পদ্মশিবির।
ভোট-পরবর্তী অশান্তি প্রসঙ্গে শমীক বলেন, বিজেপির পতাকা ব্যবহার করে কেউ যদি হামলা চালায়, তার দায় দল নেবে না, কারণ এখনও তারা ক্ষমতায় আসেনি। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান যে হিংসার ঘটনাগুলি ঘটছে তা আসলে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ফল। তিনি আরও দাবি করেন, যারা পরিস্থিতি বুঝে দল বদল করে বিজেপিতে আসছেন, তাঁদের দল থেকে বের করে দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ‘আমি ছ’মাস আগে থেকে বলে আসছি, তৃণমূল চলে গিয়েছে, তৃণমূল চলে যাবে এবং তৃণমূল চলে যাওয়ার পরে যে ‘ব্রিদিং টাইম’ থাকে, সেখানে রাজ্যপাল এবং নির্বাচন কমিশনকে দায়িত্ব নিতে হবে— তৃণমূলকে তৃণমূলের হাত থেকে বাঁচানোর দায়িত্ব।’
শমীক ভট্টাচার্য জোর দিয়ে বলেন, বহু পুরনো কর্মীদের ত্যাগের উপর ভিত্তি করে বিজেপি গড়ে উঠেছে, তাই হঠাৎ করে আগতদের জন্য দলের আদর্শ নষ্ট হতে দেওয়া হবে না। তাঁর কথায়, ‘বিজেপির তৃণমূলীকরণ কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।‘ বিজেপির রাজ্য সভাপতির কথায়, ‘কিছু নব্য বিজেপি দেখা যাচ্ছে। এঁদের আমরা বিজেপিতে ঢুকতে দেব না। অনেকে নিজেদের রক্ত-ঘাম দিয়ে বিজেপিকে তৈরি করেছেন। ’৮০-’৯০ সাল থেকে বিজেপির যখন কিচ্ছু ছিল না, ওই ব্যক্তিদের রক্ত-ঘামে বিজেপি তৈরি। যেখানে যেখানে হামলা হচ্ছে… প্রয়োজনে আমি রাস্তায় নামব।’
একইসঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, যদি বিজেপির কোনও নেতা বা কর্মী হিংসায় জড়িত থাকেন, তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি প্রয়োজনে গ্রেপ্তারের ব্যবস্থাও করা হবে বলেও তিনি জানান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপেরও দাবি জানিয়েছেন তিনি। বিজেপির রাজ্য সভাপতি দাবি করেছেন, এই মুহূর্তে যাঁরা রাজ্যনৈতিক হিংসা ঘটাচ্ছেন, তাঁরা প্রত্যেকে বিজেপি ‘সেজেছেন’। শমীকের কথায়, ‘বিজেপির যত বড় নেতাই হোন, কেউ এ রকম করলে তাঁকে আমরা অ্যারেস্ট করাব। ছবি দিন, নাম দিন। আমি কথা দিচ্ছি ব্যবস্থা নেব। নইলে আমি সভাপতির পদ থেকে চলে যাব।’
অবশেষে তিনি বলেন ইতিমধ্যেই বিজেপির দু’জন কর্মীর রক্ত ঝরেছে। নির্বাচনের ফল যদি উল্টো হতো তাহলে বিজেপির ২০০ কর্মী খুন হয়ে যেতেন। হাজার মহিলা গণধর্ষিতা হতেন। তবে বিজেপি যে কোনও অবস্থাতেই হিংসা চায় না একথা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। রাজ্যের ডিজি, কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে দরকার পড়লে লাঠিচার্জ করার কথাও বলেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।