সিভিক ভলান্টিয়র, ভিলেজ পুলিশ-সহ বিভিন্ন চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া ও যোগ্যতা নিয়ে এবার কড়া অবস্থান নিল রাজ্য সরকার। বাজেট পেশের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, এই কর্মী বাহিনীর একটি বড় অংশের ক্ষেত্রে নানা ধরনের অনিয়ম ও অস্বচ্ছতার অভিযোগ সামনে এসেছে।
অভিযোগ, অনেকের শিক্ষাগত যোগ্যতার শংসাপত্র এবং বয়স সংক্রান্ত নথি ভুয়ো। পাশাপাশি বেশ কিছু কর্মীর প্রয়োজনীয় শারীরিক সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এমনকি তাঁদের একাংশের বিরুদ্ধে শাসকদলের ক্যাডার হিসেবে কাজ করার অভিযোগও রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের জন্য একটি বিস্তৃত স্ক্রিনিং বা যাচাই প্রক্রিয়া চালুর ইঙ্গিত দিয়েছে সরকার। যদিও বাজেটে চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের ভাতা সাময়িকভাবে ২০০০ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা করা হয়েছে, তবুও ভবিষ্যতে কর্মরত থাকতে হলে যোগ্যতার প্রমাণপত্র ও অন্যান্য নথি যাচাইয়ের মুখোমুখি হতে হবে। প্রশাসনের বক্তব্য, আপাতত কোনও গণছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না। তবে প্রত্যেকের যোগ্যতা ও নথিপত্র বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখা হবে।
এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ওঁদের অনেক জল মেশানো হয়েছে। ওঁদের যোগ্যতা নেই, অনেকেরই এডুকেশন সার্টিফিকেট ভুয়ো, পার্টির ক্যাডার হিসেবে কাজ করেন অনেকে, অনেকের বয়সের সার্টিফিকেট ভুয়ো, অনেকের আবার শারীরিক দক্ষতাও নেই।’
সরকারি মহলের মতে, এই প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য হল প্রকৃত ও যোগ্য কর্মীদের চিহ্নিত করা এবং ভুয়ো বা অযোগ্যদের আলাদা করে চিহ্নিত করা। সেই কারণেই সংশ্লিষ্ট কর্মীদের এখন থেকেই মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে খবর, ঝাড়াই-বাছাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর যোগ্য কর্মীদের তাঁদের কাজের ভিত্তিতে উপযুক্ত পারিশ্রমিক ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। অন্যদিকে, যাঁদের বিরুদ্ধে অনিয়ম বা ভুয়ো তথ্যের অভিযোগ প্রমাণিত হবে, তাঁদের ক্ষেত্রে কোনওরকম রেয়াত করা হবে না বলেই ইঙ্গিত মিলেছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘একটু ঝাড়াই বাছাই হবে। এখন থেকেই মানসিক প্রস্তুতি রাখতে পারেন। ছাঁটাই হবে না, কিন্তু ঝাড়াই বাছাই হবে। এটা মাথায় রাখতে পারেন। তারপর সঠিক লোককে দেব।’