বাগনানের বিজেপি কর্মী প্রশান্ত দে খুনের ঘটনায় শোকস্তব্ধ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার বিকেলে বাগনানের বাঁটুলে নিহতের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তিনি দেখা করেন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রশান্তের মা, স্ত্রী ও দুই মেয়ের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। সেইসঙ্গে তিনি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন। পরিবার সূত্রের খবর, দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকার যা করার, সেটাই করবে বলে মুখ্যমন্ত্রী তাদের জানিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই বিশেষ তদন্তকারী দল সিট গঠন করে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে বলেও তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।
পরিবারের আর্থিক সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে নিহতের পরিবারের হাতে ৫ লক্ষ টাকার আর্থিক সাহায্য তুলে দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি, প্রশান্ত দে-র বড় মেয়েকে বাগনান-২ বিডিও অফিসে চুক্তিভিত্তিক চাকরি দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ছোট মেয়ের পড়াশোনার সম্পূর্ণ খরচও সরকার বহন করবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ১৭ জুন রাতে বাগনানের বাঁটুল গ্রামের বাসিন্দা ও বিজেপির স্থানীয় বুথের সহ-সভাপতি প্রশান্ত দে-কে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। বিজেপির দাবি, একটি অনুষ্ঠান থেকে ফেরার সময় তাঁর উপর হামলা চালানো হয়। পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর অভিযুক্তরা ফোনে জানিয়েছিল, প্রশান্তকে খুন করা হয়েছে। কেউ ঘটনাস্থলে এলে তাঁকেও মেরে ফেলা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এই ঘটনায় স্থানীয় তৃণমূল নেতা মফিজুল রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক বলেও দাবি।