খবর মিলেছিল, শনিবার রাতেই কাঁথির বাড়িতে ফিরবেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই খবর ছড়িয়ে পড়তেই শনিবার সন্ধ্যা থেকে এলাকার মানুষ জড়ো হতে থাকেন শান্তিকুঞ্জের বাইরে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই বেড়েছে ভিড়। বাড়তে থাকে প্রতীক্ষা। শুধু রাস্তায় নয়, আশপাশের বাড়ির ছাদ, বারান্দাতেও ছিল মানুষের ঢল। অনেকেই ছবি তুলছেন, কেউবা ভিডিও করছেন। কাঁথির শান্তিকুঞ্জের বাইরে পদ্মফুলের মালা, ফুল হাতে দাঁড়িয়ে অসংখ্য মানুষ। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হলেও তাঁদের কাউকেই ধৈর্য হারাতে দেখা যায়নি। সকলেই চাইছেন, বুবাইকে এক বার চোখের দেখা দেখতে। বুবাই হল শুভেন্দু অধিকারীর ডাকনাম।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার পর শনিবার রাতেই কাঁথির উদ্দেশে রওনা দেন শুভেন্দু। প্রায় মাঝরাতে পৌঁছন শান্তিকুঞ্জে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর গাড়ি পৌঁছতেই স্লোগান উঠল, ‘বুবাইদা জিন্দাবাদ’। রবিবার সকালেও শান্তিকুঞ্জের সামনে দেখা গেল বহু মানুষে ভিড়। দূরদূরান্ত থেকে আসা বহু মানুষজন শুভেন্দুকে একঝলক দেখার জন্য দীর্ঘ সময় ধরে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন। কলকাতার দমদম থেকে ব্রোঞ্জের চিতাবাঘ নিয়ে সোজা শান্তিকুঞ্জের সামনে হাজির হয়েছিলেন এক অনুরাগী। এক মহিলা সমর্থক এসেছিলেন শঙ্খ নিয়ে। প্রতিবেশীরা সেসব মুহূর্ত মোবাইল ফোনে ক্যামেরা বন্দি করেন।
শনিবার শুভেন্দুর শপথ পাঠ শেষ হতেই আবেগে ভেসে যান কাঁথির মানুষ। শুরু হয় অপেক্ষার প্রহর গোনা। কখন আসবেন তাঁদের প্রিয় বুবাইদা। প্রতিবেশীরা তো বটেই, আশপাশের বহু মানুষ বুবাইদাকে প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী রূপে দেখতে শান্তিকুঞ্জের সামনে ভিড় জমান। শপথগ্রহণের পর একাধিক অনুষ্ঠানে যোগ দেন শুভেন্দু। প্রশাসনিক বৈঠক করেন রাজ্যের মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালা, স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষ এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তের সঙ্গে।
বৈঠক শেষে রাতেই শুভেন্দু কাঁথির উদ্দেশে রওনা হন। শনিবার রাত ২টো নাগাদ শান্তিকুঞ্জে পৌঁছন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী। মাঝরাতেও কাঁথিতে তখন উপচে পড়া ভিড়। জনারণ্যের মধ্যে দিয়ে শান্তিকুঞ্জে প্রবেশ করেন তিনি। উপস্থিত জনতা তখন স্লোগান তুলেছেন, ‘বুবাইদা জিন্দাবাদ’। এর পরেই গাড়ি থেকে নেমে প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁদের শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন। আগের মতোই বুবাইকে কাছে পেয়ে খুশি প্রতিবেশীরাও।
রবিবার বিকেলের দিকে শান্তিকুঞ্জের বাড়ি থেকে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দুর গলায় ছিল গেরুয়া উত্তরীয়, পরনে সাদা পাঞ্জাবি। সেই সময় শুভেন্দুকে ঘিরে মানুষের উচ্ছ্বাস, উন্মাদনা ছিল চোখে পড়ার মতো। কার্যত, জনপ্লাবনে ভেসে গাড়ির কাছে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। উচ্ছ্বসিত জনতা তাঁর সঙ্গে একবার হাত মেলানোর জন্য তাঁর দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। অনেকের সঙ্গেই তিনি হাত মেলান।
পদ্মফুলও দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রীর হাতে। উপস্থিত জনতার সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করতে করতেই মুখ্যমন্ত্রী পৌঁছে যান তাঁর গাড়ির কাছে। নিজের পুরনো এসইউভিতে চড়েই কলকাতার রওনা হন বাংলার নবম মুখ্যমন্ত্রী। রাস্তাতেও শুভেন্দুকে দেখার জন্য বহু মানুষ দাঁড়িয়েছিলেন। উপস্থিত জনতার আবেদনে সাড়া দিয়ে কাঁথিতে গাড়ি থেকে নামেন মুখ্যমন্ত্রী। অগণিত মানুষের শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন তিনি। কাঁথির পর ফের কোলাঘাটেও থমকায় মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়। সেখানেও গাড়ি থেকে নেমে অপেক্ষারত অসংখ্য মানুষের সঙ্গে হাত মেলান শুভেন্দু।
স্থানীয় সূত্রে খবর, নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর কাঁথির বাড়ি শান্তিকুঞ্জের সামনে গার্ডরেল বসানোর কথা বলেছিল পুলিশ। কিন্তু পুলিশের প্রস্তাবে আপত্তি জানান মুখ্যমন্ত্রীর বাবা শিশির অধিকারী। তিনি জানিয়ে দেন, বাড়ির সামনে গার্ডরেল বসানোর প্রয়োজন নেই। আগের মতোই বাড়ির সামনে দিয়ে অবাধে যাতায়াত করবেন সব মানুষ।