রথযাত্রা ও শ্রাবণ মেলাকে কেন্দ্র করে ৬০টি রথযাত্রা কমিটিকে ৫ লক্ষ টাকা অনুদান মুখ্যমন্ত্রীর

Image: SNS

রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা ও শ্রাবণী মেলাকে কেন্দ্র করে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার নবান্ন থেকে রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসক, পুলিশ প্রশাসন, ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা কমিটি এবং রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন, ইসকন, ভারত সেবাশ্রম সংঘ-সহ বিভিন্ন আধ্যাত্মিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন তিনি।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘বিকাশ ভি হোগা, বিরাসত ভি হোগা’ স্লোগানকে সামনে রেখে রাজ্যের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় সরকারের নতুন কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের ৬০টি রথযাত্রা কমিটিকে ৫ লক্ষ টাকা করে সরকারি অনুদান, শ্রাবন মাসে পুণ্যার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা ও জলযাত্রীদের মাথায় হেলিকপ্টার থেকে পুষ্পবৃষ্টি করার পাশাপাশি একাধিক সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।


মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যে দশকের পর দশক ধরে রথযাত্রার আয়োজন করে আসা ৬০টি ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা কমিটিকে পাঁচ লক্ষ টাকা করে সরকারি আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। তাঁর কথায়, এটি সরকারের তরফে রথযাত্রা উৎসবে সরাসরি অংশগ্রহণের প্রতীক। তিনি বলেন, প্রথম বছর তালিকা তৈরিতে কিছু ত্রুটি থাকতে পারে। সেই জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করে আশ্বাস দেন, আগামী দিনে আরও বিস্তৃত ও ত্রুটিমুক্ত তালিকা তৈরি করা হবে। সরকারি অনুদানের অর্থ বিশেষ করে কাঠের তৈরি পুরনো রথগুলির সংস্কার ও সংরক্ষণে ব্যয় করার জন্যও কমিটিগুলিকে অনুরোধ জানান তিনি।

রথযাত্রা উপলক্ষে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। সারা রাজ্যের ৭৫টি ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রার মেলা প্রাঙ্গণে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে বিশেষ সরকারি সেবাকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। পুরসভা, জেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট রথযাত্রা কমিটির সমন্বয়ে এই শিবিরগুলিতে পানীয় জল, প্রাথমিক চিকিৎসা, বিশ্রামের ব্যবস্থা-সহ পুণ্যার্থীদের প্রয়োজনীয় পরিষেবা দেওয়া হবে।
এই প্রসঙ্গে পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে কটাক্ষ করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘আগে রথযাত্রায় কয়েকজন ট্রাফিক পুলিশ পাঠিয়েই সরকারের দায়িত্ব শেষ হয়ে যেত।’ অথচ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে সরকার সরাসরি এই ধরনের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে। তাঁর দাবি, বর্তমান সরকার উন্নয়নের পাশাপাশি রাজ্যের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে।

শ্রাবণী মেলাকে কেন্দ্র করেও একাধিক বিশেষ উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। জলপাইগুড়ির জল্পেশ মন্দির, ভুটান সীমান্তের জয়ন্তী এলাকা এবং হুগলির তারকেশ্বর ধাম–এই তিনটি তীর্থক্ষেত্রকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তারকেশ্বর ধামের উন্নয়নে ইতিমধ্যেই প্রায় ১৫ কোটি টাকার কাজ চলছে। শেওড়াফুলি থেকে তারকেশ্বর পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার পথে প্রতি পাঁচ কিলোমিটার অন্তর বিশেষ সরকারি শিবির তৈরি করা হবে। সেখানে বিশুদ্ধ পানীয় জল, ওআরএস, বিশ্রামের জায়গা, অস্থায়ী স্বাস্থ্য শিবির, পুলিশ সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় নাগরিক পরিষেবা থাকবে।

সবচেয়ে আকর্ষণীয় ঘোষণা হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আবহাওয়া অনুকূল থাকলে শ্রাবণ মাসের প্রতি সোমবার তারকেশ্বরগামী জলযাত্রীদের উপর রাজ্য সরকারের হেলিকপ্টার থেকে গোলাপ ও বিভিন্ন ফুলের পুষ্পবৃষ্টি করা হবে। তিনি নিজেও আগামী ১৪ জুলাই তারকেশ্বর ধামে উপস্থিত থাকবেন এবং ১৬ জুলাই কলকাতার ইসকনের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা উৎসবে যোগ দেবেন বলেও জানিয়েছেন।

এছাড়া, ধর্মীয় পর্যটনের উন্নয়নেও বড় পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, মুর্শিদাবাদের কিরীটেশ্বরী মন্দির-সহ রাজ্যের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী মন্দিরগুলিকে কেন্দ্র করে ‘তীর্থক্ষেত্র সার্কিট’ গড়ে তোলা হবে। আগামী দু’বছরে এই প্রকল্পে উন্নয়নমূলক কাজ হবে। চলতি অর্থবর্ষেই এই খাতে প্রাথমিকভাবে এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি ভারত সেবাশ্রম সংঘ পরিচালিত হাসপাতালগুলিকে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। রামকৃষ্ণ মিশনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির উন্নয়নমূলক প্রস্তাবও সরকার গ্রহণ করেছে। এছাড়া কলকাতার শিমলা স্ট্রিটে স্বামী বিবেকানন্দের জন্মভিটের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পাঁচ কোটি টাকার করপাস ফান্ড গঠনের ঘোষণাও করেন তিনি।