মুখ্যমন্ত্রীর হাতে শুরু ইসকনের রথযাত্রা, সোনার ঝাড়ু দিয়ে ঝাঁট শুভেন্দুর

Image: SNS

ঐতিহ্য মেনে সোনার ঝাড়ু দিয়ে ঝাঁট দিয়ে কলকাতার ইসকনের রথযাত্রার সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রথের রশিতে টান দিয়ে রথের সামনে আরতি করে সাষ্টাঙ্গ প্রণাম করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা নাগাদ ইসকন মন্দিরে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। প্রথমে জগন্নাথদেবের বিগ্রহের সামনে প্রণাম করে পুজো ও আরতি করেন। এরপর তিনি শ্রীল প্রভুপাদের কক্ষে যান। সেখানে গিয়ে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করেন এবং পুরো ঘরটি ঘুরে দেখেন। এই ঘরটিকে হেরিটেজ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়র জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আবেদন জানানো হবে বলেও জানান তিনি।


ইসকনের রথযাত্রায় অংশগ্রহণকে নিজের সৌভাগ্য বলে এদিন উল্লেখ করে শুভেন্দু বলেন, একজন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এবং রাষ্ট্রবাদী ও সনাতনী আদর্শে বিশ্বাসী মানুষ হিসেবে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরে তিনি গর্বিত। তাঁর কথায়, ‘রাজ্যের উন্নয়নের পাশাপাশি সংস্কৃতিকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।‘

মন্দিরে পুজো শেষ করে রথের কাছে গিয়ে জগন্নাথদেবের বিগ্রহে মাল্যদান করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আজ ভক্তদের দিন।‘ ভক্তদের অনুরোধে দু’কলি গৌড়ীয় সঙ্গীতও পরিবেশন করেন তিনি। এরপর সোনার ঝাড়ু দিয়ে রথের রাস্তা পরিষ্কার করার ঐতিহ্যবাহী প্রতীকী আচার পালন করেন। যার মধ্যে দিয়েই শুরু হয় কলকাতার ইসকনের রথযাত্রা।

রথযাত্রাকে ঘিরে এ বছর বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। রাজ্যের তরফে ৬০টি রথযাত্রা কমিটিকে আর্থিক অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কমিটিকে ৫ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে। সেই হিসেবে মোট ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। সরকারের দাবি, এই অনুদান রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা এবং সংশ্লিষ্ট সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে আর সুসংগঠিত করতে সাহায্য করবে।

 

ইসকনের বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী। মিড-ডে মিল প্রকল্পের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘রাজ্যে মিড-ডে মিল কিচেন তৈরি হচ্ছে। ইসকনের কাছে এই  কাজ নতুন নয়। দেশের ২২টি বড় শহরে স্কুলের মিড-ডে মিলের দায়িত্বে রয়েছে ইসকন।‘ ইসকনের পরিবেশিত মিড ডে মিল পুষ্টিগুণসম্পন্ন বলেও জানান তিনি। একইসঙ্গে অতীতে মিড-ডে মিল প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও সরব হন তিনি।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে উপলক্ষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সমাজমাধ্যমে তিনি মহাপ্রভু জগন্নাথদেবের কাছে সকলের সুস্বাস্থ্য, সুখ ও সমৃদ্দির কামনা করেন।