রবিবার সংসদে বাজেট পেশ করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। আর একে ‘সম্পূর্ণ দিশাহীন বাজেট’ বলে কটাক্ষ করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘বাংলা কিছুই পেল না’ বলেও দাবি করেন তিনি। রবিবার দিল্লি যাওয়ার আগে কলকাতা বিমানবন্দরে মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় বাজেটের সমালোচনা করে বলেন, ‘শুধুই মিথ্যা কথার ফুলঝুরি। এটা হাম্পটি ডাম্পটি বাজেট’। সাধারণ মানুষের জন্য কিছুই নেই। সামাজিক সুরক্ষা খাতেও কিছু নেই বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। রাজনৈতিক ভাবে কিছু করতে পারবে না বিজেপি। ভোট পাবে না বলেই পশ্চিমবঙ্গকে বঞ্চনা করা হচ্ছে দাবি মুখ্যমন্ত্রীর।
মমতা আরও বলেন, ‘এটা কৃষক, মহিলা, গরিব, যুবসমাজ, আদিবাসী বিরোধী বাজেট। শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষায় বিনিয়োগ কমানো হয়েছে, কৃষিক্ষেত্রে সারের উপরে ভর্তুকি কমানো হয়েছে। পুরোটাই মিথ্যার জঞ্জাল। অর্থনীতির অবক্ষয় হয়েছে।’ বিধানসভা নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় সরকারের থেকে বাংলা কী পেল তার জবাবে মমতা বলেন, ‘বাংলার জন্যে এরা কিছুই দিল না। শুধু বড় বড় কথা বলা হয়।… বাংলার ভোটে এঁরা কিছুই দেয়নি।’
রবিবার বাজেট পেশের সময় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ জানান, ডানকুনি এবং গুজরাতের সুরতের মধ্যে নতুন পণ্য করিডর গঠন করা হবে। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০০৯ সালে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী থাকার সময় ডানকুনি পণ্য করিডরের কথা ঘোষণা করেছিলেন তিনি। তার পর ওই কাজ থমকে যায় বলে জানিয়েছেন মমতা।
গত রাজ্য বাজেটে তৃণমূল সরকার ছ’টি পণ্য করিডর তৈরির কথা জানিয়েছিল বলেও স্মরণ করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রসঙ্গত, ওই বাজেটে ডানকুনি-রঘুনাথপুর, রঘুনাথপুর-তাজপুর, ডানকুনি-ঝাড়গ্রাম, ডানকুনি-কোচবিহার এবং পুরুলিয়ার গুরুডি থেকে জোকা এবং খড়্গপুর-মোরগ্রাম করিডর গড়ে তোলার কথা জানানো হয়েছিল। বিজেপিকে আক্রমণ করে মমতা বলেন, ‘ওরা কী করবে? আমরাই তো জঙ্গলমহলের জন্য জঙ্গলসুন্দরী করেছি। পুরুলিয়ার জন্য আলাদা পণ্য করিডর করেছি। ইতিমধ্যেই ৭২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে।‘ রবিবারের বাজেটে শিলিগুড়ি এবং বারাণসীর মধ্যে হাইস্পিড রেল করিডর তৈরির কথা বলা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে মোদীর নির্বাচনী কেন্দ্র বারাণসীকে ‘ডিজনিল্যান্ড’ বানানো হচ্ছে বলে কটাক্ষ করেন মমতা।
প্রায় একই সুরে বাজেটের সমালোচনায় সরব হয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি এই বাজেটকে ‘বিমাতৃসুলভ’ বলে অভিহিত করেছেন। অভিষেক বলেন, ‘বাংলার জন্য কোন বরাদ্দ, প্রকল্প কিছুই নেই। বাংলার কৃষক, শ্রমিক, তপসিলি কারও জন্য কিছু নেই। যুবসমাজের কর্মসংস্থানেও কিছু নেই। ৮৫ মিনিট ভাট বকে কাটিয়ে দিয়েছেন। পুরনো কিছু বলা হয়েছে। নতুন বোতলে পুরনো মদ।‘
বাজেট নিয়ে চূড়ান্ত সমালোচনা করেছেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘বাংলায়, তারা হেরে যাচ্ছে, তাই বিজেপি, তার বিমাতৃসুলভ মনোভাব নিয়ে বাংলার জনগণকে শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু গণতন্ত্রে এটি উল্টোভাবে কাজ করে। আসন্ন নির্বাচনে, জনগণ বিজেপিকে উপযুক্ত জবাব দেবে।’
বেঙ্গালুরুর মতো আরও দু’টি এনআইএমএইচএএনএস ইনস্টিটিউট করার কথা ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা। অভিষেক বলেন, ‘এই দু’টি করা হবে একটি ঝাড়খণ্ডে এবং অন্যটি আসামে। বাংলার পূর্বে আসাম, পশ্চিমে ঝাড়খণ্ড। বাংলার মানুষের অসুবিধা হলে হয় আসাম না হলে ঝাড়খণ্ড যাও। বাংলায় আমরা করব না। বাংলার মানুষকে অত্যাচারিত করে রাখো।’
রবিবার ৮৫ মিনিট ধরে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। তার মধ্যে একবারও বাংলার নাম নেননি বলে অভিযোগ করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বাজেটকে অভিষেক সেল্ফ অ্যাপ্রাইজাল রিপোর্ট বলে উল্লেখ করেছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। কেন্দ্রীয় সরকারের পিআর ডিপার্টমেন্ট তৈরি করে দিয়েছে বলে মত অভিষেকের।