মমতা শিবিরে তুমুল ধাক্কা: তৃণমূলের রাজ্য সভানেত্রীর পদ ছাড়লেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য

মমতা-সঙ্গ ত্যাগ চন্দ্রিমার (File Pic-ANI)

গ্রহণ লেগেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যতে। একের পর এক ভাঙন আর জটিলতা তো কাটছেই না, উপরন্তু রোজ তাতে নতুন ঘৃতাহুতি পড়ছে। শনিবার বারবেলায় আচমকাই চরম অস্বস্তিতে পড়ল কালীঘাট। মমতা বন্দ্যোপাধ্যারে অত্যন্ত আস্থাভাজন ও বিশ্বস্ত বলে পরিচিত চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য তৃণমূলের সব পদ থেকে পদত্যাগ করার কথা জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে তিনি চিঠিও পাঠিয়ে দিয়েছেন। দলের অন্দরের খবর, সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের (AITC) নবনিযুক্ত রাজ্য সভানেত্রীর পদ থেকে যেমন ইস্তফা দিয়েছেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (Chandrima Bhattacharya), তেমনই কালীঘাটের সঙ্গে আর কোনও সংশ্রব রাখতে চান না বলেও জানিয়েছেন ঘনিষ্ঠ মহলে। উল্লেখ্য, টালমাটাল সময়ে তাঁর উপর ভরসা করেই মমতা অসুস্থ সুব্রত বক্সীর জায়গায় চন্দ্রিমাকে রাজ্য সভাপতি করেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) অত্যন্ত বিশ্বস্ত এবং দীর্ঘদিনের সঙ্গী হিসেবে পরিচিত চন্দ্রিমার এই আকস্মিক পদত্যাগ নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

চন্দ্রিমার পদত্যাগপত্র

 নেপথ্যে ‘পুত্র’ সমীকরণ?

রাজনৈতিক মহলের মতে, চন্দ্রিমার এই নাটকীয় সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কেবল সাংগঠনিক মতবিরোধ নয়, রয়েছে গভীর পারিবারিক ও রাজনৈতিক সমীকরণ। বেশ কিছু দিন ধরেই তৃণমূলের অন্দরে চোরা অসন্তোষ দানা বাঁধছিল। সেই জল্পনায় ঘৃতাহুতি পড়ে যখন চন্দ্রিমার পুত্র সৌরভ ভট্টাচার্যকে প্রকাশ্যেই বিদ্রোহী শিবিরের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ritabrata Banerjee) সঙ্গে দেখা যায়। ক্ষোভের এই বহিঃপ্রকাশ যে চন্দ্রিমার পদত্যাগের ভিত প্রস্তুত করছিল, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। অন্যদিকে, জানা গিয়েছে যে, শুক্রবার তাঁর উপস্থিতিতেই দলের রাজ্য অফিসে পৌঁছন বিদ্রোহী বিধায়কেরা। ঠিক তখনই অফিস ছেড়ে চলে যান তিনি। এ নিয়ে দলের একাংশে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়। সবাই বলেছে তৃণমূল ভবনের চাবি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ঋতব্রতদের হাতে তুলে দিয়েছে এই অপবাদ না নিতে পেরেই মূলত আজ, শনিবার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। অর্থাৎ, ছেলের রাজনৈতিক অবস্থান এবং অন্যদিকে নানা স্তরে রাজনৈতিক চাপ, এই দুইয়ের টানাপোড়েনেই চন্দ্রিমা এই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।


আরও পড়ুন: বারমুডা মন্ত্রী ছিলাম, বাজেটও আগে থেকে জানতাম না: পদ ছেড়েই মমতায় বিস্ফোরক চন্দ্রিমা

কালীঘাট তৃণমূল

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের পর দলের খোলনলচে বদলে ফেলতে কালীঘাটের হাইপ্রোফাইল বৈঠকে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের ওপর বড় ভরসা রেখেছিলেন তৃণমূল নেত্রী। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দলের অন্দরের সমীকরণ মেলাতে গিয়ে তাঁকে বেশ বেগ পেতে হচ্ছিল বলে খবর। বিশেষ করে দলের একাংশের ‘বিদ্রোহী’ মনোভাব এবং নিজের ছেলে সৌরভের সঙ্গে ঋতব্রতর প্রকাশ্য বৈঠক চন্দ্রিমার অবস্থানকে দলের অন্দরে কিছুটা হলেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল। এই পদত্যাগের পর চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য সরাসরি ঋতব্ত শিবিরমুখী হন কিনি, সেটাই দেখার। এই ঘটনায় যে কালীঘাট তৃণমূলের অন্দরে বড়সড় ড্যামেজ কন্ট্রোলের (Damage Control) প্রয়োজন পড়বে, তা বলাই বাহুল্য।