সেবক–রংপো রেলপথ নির্মাণ ঘিরে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ে বিপদের আশঙ্কা নিয়ে যখন বিতর্ক তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় ডুয়ার্সের বুক চিরে আরও একটি নতুন রেলপথে সবুজ সংকেত দিল রেল। চালসা থেকে ভুটান সীমান্তের কাছে নক্সাল পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ রেললাইন তৈরির প্রস্তাবে সায় মিলেছে। জলপাইগুড়ির সাংসদ জয়ন্ত রায়ের প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে বলে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণো চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন। তবে এত অল্প দূরত্বের জন্য সংরক্ষিত জঙ্গল ও পাহাড় কাটার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
রেল সূত্রে খবর, প্রথম ধাপে চালসা থেকে খুনিয়া মোড়, শিবচু ও জলঢাকা হয়ে নক্সাল পর্যন্ত লাইন পাতার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পের আনুমানিক খরচ ধরা হয়েছে ২৯২ কোটি টাকা। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জলকিশোর শর্মা জানান, আগামী অর্থবর্ষে একাধিক নতুন রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনার মধ্যেই এই প্রকল্পটি রয়েছে।
সাংসদ জয়ন্ত রায়ের দাবি, এই রুটে রেল পরিষেবা চালু হলে পর্যটনের প্রসার ঘটবে এবং স্থানীয় মানুষের রুজিরোজগার বাড়বে। বিন্দু, ঝালংয়ের মতো এলাকা আরও জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র হয়ে উঠবে বলেও তাঁর মত। রেল ইউজার্স কমিটির সদস্য পার্থ রায়ও পর্যটন ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বৃদ্ধির যুক্তি তুলে ধরেছেন।
তবে পরিবেশপ্রেমীদের আশঙ্কা অন্য জায়গায়। প্রস্তাবিত রুটের পাশে রয়েছে চাপড়ামারি অভয়ারণ্য ও নেওড়া ভ্যালি জাতীয় উদ্যানের সংবেদনশীল এলাকা। অতীতে পরিবেশগত কারণে চালসা–মেটেলি রেলপথের ছাড়পত্র মেলেনি। সেখানে নক্সাল পর্যন্ত লাইনে কীভাবে অনুমোদন মিলবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। উপরন্তু একই রুটে ইতিমধ্যেই বিকল্প হাইওয়ের কাজ শুরু হয়েছে। পরিবেশবিদ রাজা রাউতের সতর্কবার্তা– পাহাড় ও জঙ্গলে একসঙ্গে চওড়া সড়ক ও রেলপথ তৈরি হলে ধস ও পরিবেশগত বিপর্যয় অনিবার্য।