ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর রাজ্যের সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল। বুধবার সকালে তিনি এবং নির্বাচন কমিশনের অন্যান্য আধিকারিকরা ২৯৩টি বিধানসভা আসনের গেজেট নোটিফিকেশন নিয়ে লোকভবনে উপস্থিত হন এবং রাজ্যপাল রবীন্দ্র নারায়ণ রবির সঙ্গে বৈঠক করেন।
লোকভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন সরকার গঠনের আগে নির্বাচন এবং নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতির বিস্তারিত তথ্য রাজ্যপালকে জানানো হয়েছে। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল এবং সংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যানও তাঁর কাছে পেশ করেন সিইও। পাশাপাশি, ভোটের ফল ঘোষণার পর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে যে হিংসার অভিযোগ উঠেছে, সেই বিষয়েও রাজ্যপাল তথ্য সংগ্রহ করেন, কারণ তিনি রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান।
উল্লেখ্য, নতুন মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনিকভাবে নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানেই রাজ্যের পরিস্থিতি থাকে। কোনও দল বা জোট বিধানসভায় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলে রাজ্যপাল সেই দলের নেতাকে সরকার গঠনের জন্য আমন্ত্রণ জানান। আর যদি স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকে, তাহলে রাজ্যপাল তাঁর সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে বৃহত্তম দল বা জোটকে সরকার গঠনের সুযোগ দেন এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে বলেন।
এবারের নির্বাচনে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ফলাফল মেনে নিতে অস্বীকার করে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছেন এবং পদত্যাগ না করার কথাও জানিয়েছেন। অন্যদিকে, সিইও মনোজ আগরওয়াল এই অভিযোগ খারিজ করেছেন।
প্রসঙ্গত, গত মার্চে সি ভি আনন্দ বোস রাজ্যপালের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর রবীন্দ্র নারায়ণ রবিকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রশাসনিক ক্ষেত্রে একাধিক পরিবর্তন আনা হয়। ব্যস্ততার কারণে এতদিন সরাসরি সাক্ষাৎ সম্ভব না হলেও, অবশেষে এই বৈঠকের মাধ্যমে নির্বাচন সংক্রান্ত সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রাজ্যপালের কাছে তুলে ধরা হল।