রাজ্যের ক্ষমতায় এলে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালু করা থেকে শুরু করে পরিকাঠামো উন্নতি ঘটানো হবে বলে কথা দিয়েছিলেন বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। সেই কথা রাখলেন তিনি। এখন রাজ্যে বিজেপি সরকার এসেছে। আর তারপরই পুরনো দেওয়া কথা যে তিনি ভোলেননি সেটার প্রমাণ দিলেন। দীর্ঘ ১৫ বছরের অপেক্ষার পর বংশীহারির বদলপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চালু হল ১০ শয্যার হাসপাতাল পরিষেবা। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে হাসপাতালের উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। ভার্চুয়ালি হরিরামপুরের বালিহারা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগা সেন্টার, কুশমণ্ডির আমিনপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ল্যাবরেটরি এবং কুশমণ্ডি ও হরিরামপুরে আয়ুষ্মান আরোগ্য কেন্দ্রেরও উদ্বোধন করেন তিনি। সুতরাং জেলার নানা এলাকার বাসিন্দারা আগামী দিনে আরও উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা পাবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, বহুদিন আগে বদলপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিকাঠামো তৈরি হয়েছিল। গত ১৫ বছর ধরে সেখানে রোগী ভর্তি রেখে চিকিৎসা পরিষেবা চালু করা সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দারা একাধিকবার জনপ্রতিনিধিদের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু সমস্যার সমাধান হয়নি বলেই অভিযোগ উঠেছে। ফলে রাতে অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসার জন্য বদলপুর এবং পার্শ্ববর্তী কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের বহু পথ পেরিয়ে অন্য হাসপাতালে যেতে হতো। দুর্গাপুজোর আগে বদলপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শনে আসেন সুকান্ত মজুমদার। স্থানীয় বাসিন্দাদের দ্রুত পরিষেবা চালুর আশ্বাস দিয়েছিলেন। এবার সেই প্রতিশ্রুতি মতো ইনডোর পরিষেবা চালু করা হল।
এই জেলার মানুষজনকে যাতে আর কষ্ট করে অন্যত্র যেতে না হয় সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তাতে খুশি স্থানীয় বাসিন্দারা। স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, পুরনো ভবনের পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য প্রায় ১৩ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এখানে দু’জন চিকিৎসক এবং পাঁচজন নার্সের মাধ্যমে ১০ শয্যার ইনডোর পরিষেবা চলবে। আগামী দিনে সাংসদ তহবিলের অর্থে রোগীর পরিজনদের জন্য প্রতীক্ষালয় এবং চিকিৎসকদের থাকার আবাসন তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে।
তাছাড়া মানুষের যে চাহিদা এবং দাবি ছিল সেটা পূরণ হওয়ায় খুশি এলাকাবাসী। তাই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, ‘আগে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুরবস্থার অন্যতম কারণ ছিল প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ব্লক হাসপাতালগুলিকে গুরুত্ব না পাওয়া। আমরা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির পরিকাঠামো এবং পরিষেবার উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছি। যাতে সাধারণ মানুষ কাছাকাছি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা পান। এতে মেডিক্যাল কলেজ ও জেলা হাসপাতালে অপ্রয়োজনীয় ভিড় কমবে।’