পশ্চিমবঙ্গের উন্নতি ঘটাতে হবে। পশ্চিমবঙ্গের জন্য টাকা ছাড়তে হবে। আর কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়িত করতে হবে। এই কথাগুলি শোনা গিয়েছিল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মুখে। আর সেই কথাগুলি যাতে বাস্তবায়িত হয় তার জন্য বারবার ছুটে গিয়েছেন নয়াদিল্লি। বৈঠক করেছেন একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা-মন্ত্রীদের সঙ্গে। আর বাংলার জন্য প্রকল্প ও টাকা দিতে দরবার করেছেন বারবার। এবার সেই দরবারে সাড়া মিলল। একসঙ্গে ১৭০০ কোটি টাকা মঞ্জুর করল কেন্দ্রীয় সরকার।
এদিকে অন্নপূর্ণা যোজনা, আয়ুষ্মান ভারত থেকে শুরু করে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প চালু হয়ে গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। এবার প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় পশ্চিমবঙ্গে একযোগে ১০ লক্ষ বাড়ি তৈরি করার অনুমোদন দিল নরেন্দ্র মোদীর সরকার। একইসঙ্গে গ্রামীণ রাস্তা, পেনশন এবং ১০০ দিনের কাজ মিলিয়ে মোট ১৭০০ কোটি টাকা ইতিমধ্যেই মঞ্জুর করা হয়েছে। এই কৃতিত্ব অবশ্যই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর। রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পরপরই কেন্দ্রের এই বিপুল অর্থ বরাদ্দ পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ অর্থনীতিকে অনেকটা চাঙ্গা করে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে দুর্নীতির অভিযোগে আবাস যোজনার টাকা বন্ধ করে রেখেছিল কেন্দ্র। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার আসতেই উন্নয়নের বন্যা বইতে শুরু করেছে। প্রত্যেক কেন্দ্রীয় প্রকল্প এই রাজ্যে চালু করার জন্য ব্যাপক চেষ্টা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রীরাও এই রাজ্যে এসেছেন। তাতে জলজীবন মিশনের কাজ শুরু হয়েছে। একাধিক রেল প্রকল্প মিলেছে। আর এবার মোদী সরকার আপাতত ১০ লক্ষ বাড়ির টাকায় ছাড়পত্র দিল। তার ফলে গ্রামীণ গরিব ও অনগ্রসর মানুষের বিরাট সুরাহা হতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
তাছাড়া গ্রামীণ সড়ক যোজনা খাতে ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। রাজ্যে এখন চালু হচ্ছে ১০০ দিনের কাজ। ওই খাতে কেন্দ্র ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। পঞ্চায়েত দপ্তরের আওতাধীন নানা গ্রামীণ পেনশন প্রকল্পের জন্য আরও ৬০০ কোটি টাকার অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। মোট ১৭০০ কোটি টাকা পশ্চিমবঙ্গের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী একের পর এক প্রশাসনিক বৈঠক করছেন। সেখানেও রাজ্যের উন্নয়নে যে সব প্রকল্প আসছে এবং আছে সেগুলি দ্রুত বাস্তবায়িত করতে বলছেন তিনি। মঙ্গলবারও কোলাঘাটে প্রশাসনিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে বর্ষায় যাতে মানুষজন কষ্টে না পড়েন তার উপর জোর দিয়েছেন তিনি। প্রত্যেক প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধী বিধায়ক, সাংসদদের ডাকা হচ্ছে। এবারও সেটার ব্যতিক্রম ঘটেনি।