রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পরই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন, আরজি কর হাসপাতালের ঘটনার পুনরায় তদন্ত শুরু হবে। কলকাতা পুলিশকে দায়িত্ব দেওয়া হয় তিন আইপিএস অফিসারের ভূমিকা নিয়ে। যাদের সাসপেন্ড করা হয়েছে। আর তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের ঘটনা নিয়ে সিবিআই তদন্ত করবে। সেই তদন্ত জারি আছে। সোমবার সিবিআইয়ের বিশেষ দল আসে আরজি কর হাসপাতালে। এখানে এসেই হাসপাতাল সুপারের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করতে শুরু করেন তদন্তকারীরা।
এদিকে কলকাতা পুলিশ যে তদন্ত করেছে তার একটা রিপোর্ট ইতিমধ্যেই জমা পড়েছে নবান্নে। ওই রিপোর্ট জমা দিয়েছেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা বলে সূত্রের খবর। এবার তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার তদন্তে আবার তৎপর হলো সিবিআই। সোমবার সিবিআইয়ের সাত সদস্যের প্রতিনিধিদল আরজি কর হাসপাতালে পৌঁছয়। তদন্তের অগ্রগতি করতে ঘটনাস্থল পরিদর্শনেরও পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। নবান্নে যে পুলিশের রিপোর্ট জমা পড়েছে তা সিবিআই দেখবে কিনা সেটা এখনও জানা যায়নি।
অন্যদিকে সিবিআই প্রতিনিধিদলের সদস্যরা মেডিক্যাল সুপার তথা ভাইস প্রিন্সিপাল অধ্যাপক ডাঃ সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে করেন। তদন্তের বিভিন্ন বিষয়, হাসপাতালের প্রশাসনিক নথি এবং ঘটনার সময়ে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। নিহত তরুণী চিকিৎসকের মা এখন পানিহাটির বিধায়ক। বিজেপির টিকিটে তিনি জয়ী হয়েছেন। মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চেয়েছেন তিনি। আর তারপরই সিবিআইয়ের হাসপাতালে এসে বৈঠক নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ।
তাছাড়া আরজি কর হাসপাতালের ঘটনায় সঞ্জয় রায়কে গ্রেপ্তার করেছিল কলকাতা পুলিশ। তারপর সিবিআই তদন্ত নিয়ে জানিয়ে দেয়, প্রকৃত দোষী সঞ্জয় রায়ই। কিন্তু এটা মানতে রাজি ছিলেন না নিহত চিকিৎসকের মা। আবার সঞ্জয় রায় গ্রেপ্তার হয়ে বলেছিল, ঘটনার সঙ্গে সে জড়িত ছিল না। আরও অনেক কিছু রয়েছে। সবকিছুর তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তাকে ফাঁসানো হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্ট এই ঘটনায় সিবিআই তদন্ত দিয়েছিল। তা এখনও জারি আছে। তদন্তকারীরা ইতিমধ্যেই একাধিক ব্যক্তি এবং হাসপাতাল কর্মীর বয়ান রেকর্ড করেছেন। সংগ্রহ করা হয়েছে নানা নথি ও ফরেনসিক তথ্যও। সেগুলি এবার আরও গভীরভাবে খতিয়ে দেখে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানা যাচ্ছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে জানিয়েছিলেন, দ্রুত এই মামলার তদন্ত আবার শুরু হবে। ফাইল পাঠানো হবে তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে। আর এবার সিবিআইয়ের বিশেষ প্রতিনিধিদল হাজির হলো আরজি কর হাসপাতালে।