রাজীবকে নাগালে পেতে নাছোড় সিবিআই

রাজীব কুমার (File Photo: IANS)

গত পাঁচ দিন ধরে মরিয়া চেষ্টা করেও রাজ্যের দাপুটে পুলিশ কর্তা রাজীব কুমারের নাগাল পেল না সিবিআই। আর তাতেই ক্রমশ নাছােড় হয়ে উঠছেন সিবিআই আধিকারিকরা। এডিজি (সিবিআই) রাজীব কুমারের গ্রেফতারি এড়ানাের সব পথ বন্ধ করতে আটঘাট বেধেই রণাঙ্গণে সিআইডি।

আইনি ফাঁকফোকর দিয়ে যাতে কোনওভাবে বেরিয়ে যেতে না পারেন তার জন্য শীর্ষ আদালত থেকে নিম্ম আদালত পর্যন্ত জাল বিছিয়ে কোমর বেঁধে নেমেছেন কেন্দ্রীয় গােয়েন্দা সংস্থার কর্তারা। আইনজীবীদের পরামর্শেই সুপ্রিম কোর্টে সােমবার ক্যাভিয়েট দাখিল করেছে সিবিআই। যার ফলে শীর্ষ আদালতে রাজীবের আইনজীবী এক তরফা এগিয়ে যাওয়ার পথ বন্ধ হয়। সেখানে রাজীবের রাশ রইল সিবিআইয়ের ক্যাভিয়েটরের হাতে।

অন্যদিকে চিঠি চাপাটির মধ্যে দিয়েই রাজ্য পুলিশ ও সিবিআইর মধ্যে চাল পাল্টা চাল প্রক্রিয়া সােমবারও চলল। এদিন সকাল পৌনে এগারােটা নাগাদ ফের নবান্নে হাজির হন দুই সিবিআই আধিকারিক। রাজীব কুমারের অবস্থান জানতেই মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্র সচিবের দফতরে সিবিআইর চিঠি জমা পড়ে। এদিন বিকেলেই বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের মাধ্যমে ডিজি’র চিঠি নিয়ে সিজিও কমপ্লেক্সে পৌঁছে যান রাজ্য পুলিশের প্রতিনিধি।


সুত্রের খবর, সেখানে বলা হয়েছে রাজীব কুমারের বর্তমান অবস্থান রাজ্য পুলিশের শীর্ষ কর্তা ডিজি বিরেন্দ্রও জানেন না। সতেরাে দিনের ছুটিতে রয়েছে এডিজিজ (সিবিআই) রাজীব কুমার। ৯ সেপ্টেম্বর তিনি ছুটিতে যান। রাজীবের নামের চিঠি তার বাসভবনে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি রাজীব কুমারের সঙ্গে যােগাযােগ করা যাচ্ছে না বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। রাজ্য প্রশাসন দায় এড়ানােয় রাজীব কুমারের বিপদ কী বাড়লাে?

এদিন শনিবার আগাম জামিনের আবেদন বারাসত আদালতে জানান রাজীব কুমারের আইনজীবী। সে মামলার শুনানি মঙ্গলবার। তবে সুপ্রিম কোর্টে ও হাইকোর্টের তরফ থেকে সারদা কেলেঙ্কারিতে সিবিআইকে সরাসরি সহযােগিতার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কলকাতা। পুলিশের প্রাক্তন নগরপালকে একই সঙ্গে দুই আদালতের তরফ থেকে গ্রেফতারির ওপর রাজীবের রক্ষাকবচ তুলে নেওয়া হয়েছে। যার ফলে বারাসত আদালতে মামলার রায় রাজীবের পক্ষে নাও যেতে পারে বলে মত আইনজীবী মহলের একাংশের। কার্যত প্রায় চতুর্দিক থেকেই দাপুটে পুলিশ কর্তাকে চক্রব্যুহে ঘিরে ফেলেছে সিবিআই। কিন্তু এত কিছুর পরেও রাজীব কুমার সেই অন্তরালেই।