তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের আগাম জামিনে সায় দিল না কলকাতা হাইকোর্ট। এর ফলে সুমিত রায়ের গ্রেপ্তারিতে আর কোনও আইনি বাধাও রইল না। আগামী সোমবার, ২৯ জুন এই মামলার পরবর্তী শুনানি ও রায়দান হবে। বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত জানিয়েছেন, আগামী সোমবার সুমিতকে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, আর্থিক লেনদেন-সহ সব তথ্য হলফনামা আকারে জমা দিতে হবে। সেই সঙ্গে রাজ্য কেস ডায়েরি-সহ তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্টও জমা দিতে হবে।
অভিষেকের আপ্তসহায়কের আগাম জামিন ও রক্ষাকবচ সংক্রান্ত মামলায় বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত বলেছেন, ‘অভিযোগ উঠেছে, জালিয়াতির পরে আপনার কাছে টাকা গিয়েছে। দুষ্কৃতীচক্রের মদত দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জাল দলিল ও নথি উদ্ধার হয়েছে বলে অভিযোগ। অভিযোগের তদন্তে হেফাজতে নেওয়ার প্রয়োজন পড়তে পারে।’
সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে জমি দুর্নীতির অভিযোগে এফআইআর হয়। তারপরেই আগাম জামিন ও রক্ষাকবচের আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টে মামলা করেন সুমিত রায়ের আইনজীবী। যদিও বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে সুমিতের আইনজীবীর অভিযোগ করেন, সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দায়ের হয়েছে। তাঁর আইনজীবীর এদিন আদালতে বলেন, ‘তদন্তকারী আধিকারিকরা চাইলে সুমিতের সমস্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট তদন্ত করে দেখুক। সুমিত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসের কর্মচারি। তাঁকে সরকার বেতন দেয় না। ক্যামাক স্ট্রীট অফিস বেতন দেয়। তিনি কীভাবে সরকারি জমি বিক্রি করতে পারেন। যেখানে তিনি নিজে একজন সরকারি কর্মচারী নন।’
উল্লেখ্য, জমি দুর্নীতি মামলায় ধৃত মেদিনীপুরের প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরাকে জেরার সময়ে সুমিত রায়ের নাম প্রকাশ্যে আসে। যদিও এখনও পর্যন্ত সুমিতের খোঁজ মেলেনি। শালবনি থানায় সুমিতের বিরুদ্ধে মামলা করার পরেই পুলিশ সুমিতের খোঁজে তদন্ত শুরু করে। এর আগে সুমিতের খোঁজে অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে খোঁজ চালিয়েছিল শালিবনি থানার পুলিশ। কিন্তু সেখানে খোঁজ মেলেনি। তারপর থেকে এখনও পর্যন্ত তাঁর খোঁজ চলছে।