২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে খান খান হয়ে গিয়েছে। কালীঘাট তৃণমূল একটি পক্ষ এবং ঋতব্রত গোষ্ঠী আর এক পক্ষ। এই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেদের আসল তৃণমূল দাবি করে ইতিমধ্যেই বিধানসভা আলো করে বসেছেন। তিনি হয়েছেন বিরোধী দলনেতা। তারপরই দলের প্রতীক-সহ তহবিলের দাবি করে নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছেন। পাল্টা দিয়েছে কালীঘাট তৃণমূলও। এই আবহে আসল তৃণমূল দাবি করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে দাবি করেছেন, তাঁরাই আসল তৃণমূল। তাই অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অধিকার শুধুমাত্র তাঁদেরই রয়েছে। সোমবার ঋতব্রতর এই আবেদনে সাড়া দিল না বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের একক বেঞ্চ।
এদিকে নির্বাচন কমিশন এখনও কোনও সিদ্ধান্ত জানায়নি। তার মধ্যেই একুশে জুলাই করবে বলে পুলিশের কাছে অনুমতি চেয়ে তা পেয়ে গিয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। মেয়ো রোডে তাঁরা সমাবেশ করবেন। এখন তহবিলও দাবি করে বসেছেন তাঁরা। এই আবহে ইডির আইনজীবী এসভি রাজু সোমবার আদালতে বলেন, ‘গতকাল এই অ্যাকাউন্ট ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে নিম্ন আদালত। সেটা গোপন রাখা হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে।’ পাল্টা জবাবে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও প্রশ্ন করেন, নিম্ন আদালতের এই মামলায় কালীঘাটপন্থী তৃণমূলকে কি পার্টি করা হয়েছিল? তখন তৃণমূলের আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি বলেন, ‘গোপন করার কথা হচ্ছে কেন? যেখানে এটা অর্ডার হয়েছে সেখানে কাউকে পার্টি করা হয়নি মামলায়। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য নির্দেশ দেন অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা যাবে। তারপরেও ইডি ফ্রিজ করেছে অ্যাকাউন্টগুলি।’
অন্যদিকে এই নিয়ে তুমুল সওয়াল-জবাব চলাকালীন মনু সিংভি বলেন, ‘ট্রিপল ইঞ্জিন সরকার হলে কী হতো? তিনটে এজেন্সি আসত? অ্যাকাউন্ট ব্যবহারে দেরি করার জন্যই কি মামলা করা হয়েছে? আগে নির্বাচন কমিশন ঋতব্রতদের অ্যাপ্রুভ করুক। আগে নির্বাচন কমিশন তাদের আসল তৃণমূল বলুক। ২ জুলাই বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের পর্যবেক্ষণ ছিল, একটা কমিটি গঠন হবে। তার পরেও ৭ জুলাই ইডি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেয়। যারা একমাত্র অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের দাবি করছে তারা ২৫ লক্ষ টাকা নিয়েও আগে কোনও দুর্নীতি নিয়ে অভিযোগ করেনি। রাজনৈতিক দলকে ফ্রিজ করলে সেটি গণতন্ত্রের উপর হামলা হয়। রাজনৈতিক দল চাটার্ড ফ্লাইট ব্যবহার করে এটাই স্বাভাবিক। নির্বাচনের সময় সব লেনদেন হয়েছে চেক পেমেন্টের মাধ্যমে।’
তাছাড়া এই সওয়াল-জবাব শুনে বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের প্রশ্ন, নিম্ন আদালতের বিচারকের কি ক্ষমতা আছে কোনও একজন ব্যক্তিকে অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের ক্ষমতা দেওয়ার? ইডি এক্ষেত্রে পুলিশের কাছ থেকে রিপোর্ট নিয়েছিল কি? তখন ইডির আইনজীবী ধীরজ ত্রিবেদী বলেন, ‘সিডিউলড অফেন্সের ক্ষেত্রে এর প্রয়োজনীয়তা নেই।’ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী জিষ্ণু চৌধুরীর সওয়াল, ‘আমরা নির্দেশ পেয়েছি নিম্ন আদালতের। আমরাই আসল তৃণমূল। আমরাই রিপ্রেজেন্ট করব তৃণমূলকে। আর কেউ নয়।’ তখন বিচারপতি কড়া ভাষায় বলেন, ‘প্রপার অ্যাপ্লিকেশনে আসুন। আপনাদের কথা শুনতে চাই না।’