নির্বাচনের আবহে সরগরম রাজ্য-রাজনীতি। এরই মধ্যে রামনবমী নিয়ে বিরাট উত্তেজনা তৈরি হয় রাজ্যজুড়ে। তার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার হনুমান জয়ন্তী নিয়ে নতুন করে তৈরি হয়েছে উত্তাপ। কলকাতায় হনুমান জয়ন্তীর অনুষ্ঠান ঘিরে তৈরি হয়েছিল অনিশ্চয়তা। এরপরেই আদালতের দ্বারস্থ হন অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তারা। সেই মামলায় শেষ পর্যন্ত শর্তসাপেক্ষভাবে হনুমান জয়ন্তীর অনুষ্ঠানের অনুমতি দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য।
শহরের হনুমান জয়ন্তী উপলক্ষে পুজোর আয়োজন করতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানানো হয়েছিল। সব দিক বিবেচনা করে বিচারপতি স্পষ্ট করে দেন, পুজো করা যাবে ঠিকই, তবে তা হবে নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মেনে এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থেকে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ১১২ নম্বর ওয়ার্ড, ব্রহ্মপুর অগ্রদূত ক্লাবের উলটো দিকে পুজো করা যাবে। তবে মানতে হবে বেশ কিছু শর্ত। ১ এপ্রিল থেকে ৩ এপ্রিলের মধ্যে সমস্ত আয়োজন সম্পূর্ণ করতে হবে। পুজো এবং বিসর্জনের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আদালত তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, হনুমান জয়ন্তীর অনুষ্ঠানে কোনোভাবেই ডিজে বাজানো যাবে না। উৎসবের আবহ বজায় রাখলেও তা যেন আশপাশের সাধারণ মানুষের অসুবিধার কারণ না হয়, সেই দিকেই নজর দিতে হবে বলে জানানো হয়েছে। এর পাশাপাশি, যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আদালতের তরফে জানানো হয়েছে যে, রাস্তার একটি দিক সর্বদা ফাঁকা রাখতে হবে, যাতে যানবাহন চলাচলে বাধা না পড়ে। এই অনুষ্ঠানের জন্য স্থানীয় বাসিন্দা বা জরুরি পরিষেবার কাজে কোনও বিঘ্ন না ঘটে, সেটাই নিশ্চিত করতে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হনুমান জয়ন্তীর অনুষ্ঠানে নিরাপত্তার দিকেও কড়া ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। দমকল বিভাগকে প্রয়োজনীয় অনুমতি এবং সহযোগিতা দিতে হবে আয়োজকদের। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়, তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পুলিশকে। গোটা আয়োজন জুড়ে নজরদারি বজায় রাখবে প্রশাসন।
হনুমান জয়ন্তী নিয়ে আদালতের এই নির্দেশের পর একদিকে যেমন পুজো আয়োজনের পথ খুলল, তেমনই অন্যদিকে সাধারণ মানুষের স্বস্তি ও নিরাপত্তার দিকটিও সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।