রাজ্যে পালাবদলের পর বিরোধীদের লক্ষ্য করে ডিম ছোঁড়া শুরু হয়েছে। এটাকেই বলা হচ্ছে-ডিম থেরাপি। রাজ্য-রাজনীতিতে এখন এটা ট্রেন্ড হয়ে গিয়েছে। কদিন আগে সোনারপুরে মৃত দলীয় কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার পথে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর ডিম ছোঁড়া হয়। তার সঙ্গে পাথরও ছোঁড়া হয়। হেলমেট পরে রক্ষা পান সাংসদ। তখন পুলিশের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গিয়েছিল। এরপরও এই ঘটনা বারবার ঘটেছে। তাই কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হয় জনস্বার্থ মামলা। এই মামলায় এবার রাজ্যকে গাইডলাইন তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি। হলফনামা দিয়ে রাজ্য সরকারকে জানাতে হবে কত ঘটনা এরকম ঘটেছে এবং কী পদক্ষেপ করা হয়েছে?
এদিকে ডিম ছোঁড়ার ঘটনায় কী পদক্ষেপ করেছে রাজ্য প্রশাসন? এই প্রশ্ন তুলে সবিস্তার রিপোর্ট তলব করল কলকাতা হাইকোর্ট। দলের নেতা-কর্মীদের উপর ডিম ছোঁড়া থামাতে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করে তৃণমূল। মঙ্গলবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানিতে তৃণমূলের পক্ষের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেওয়ার আর্জি জানিয়েছিলেন। সেটা খারিজ করে দেন বিচারপতিরা। তবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী রাজ্য সরকারের আইনজীবীকে বলেন, ‘সামাজিক সচেতনতা তৈরি করতে হবে। কী পদক্ষেপ নিয়েছেন? একজন দু’জনকে গ্রেপ্তার করে কী হবে?’ আর বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘সবার সুরক্ষা সুনিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।’
অন্যদিকে এই শুনানিতে চলে জোর সওয়াল-জবাব। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে অ্যাডিশন্যাল অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার সওয়াল করেন, ‘নিজেদের হাতে কেউ আইন তুলবেন না, এটা আমরা বলেছি। কোনও অভিযোগ না পেলে আমরা কীভাবে পদক্ষেপ নেব?’ পাল্টা তৃণমূলের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জবাব, ‘ডিম ছোঁড়া পুলিশ নিজেরাই করছে। তা হলে জনগণ আর কী করবে? আজই অন্তর্বতী নির্দেশ দেওয়া হোক। বিমানবন্দরের মতো জায়গাতেও এই ধরনের আক্রমণ হচ্ছে। মন্ত্রী বলছেন ডিম ছুঁড়তে। সরকার কী পদক্ষেপ করেছে?’ দু’পক্ষের সওয়াল-জবাব শুনে ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, রাজ্য বিষয়টির কথা স্বীকার করে নিয়েছে। তাই অন্তর্বর্তী কোনও নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে না। রাজ্যকে হলফনামা দিয়ে সবিস্তারে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হচ্ছে।
তাছাড়া বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ, তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্ত-সহ একাধিক নেতার উপর ডিম নিক্ষেপ করা হয়েছিল। এদিন এই মামলার শুনানির পর দু’পক্ষের সওয়াল জবাব শেষে ডিম ছোঁড়া বন্ধে রাজ্য সরকারকে গাইডলাইন তৈরির নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। রাজ্য সরকারের কাছে বিস্তারিত রিপোর্টও তলব করা হয়েছে।