মিউটেশনের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের হিসেব চাইল হাইকোর্ট, নথি তলব রাজ্য ও বিধাননগর পুরসভার

রাজ্যে বিজেপি সরকার এসে প্রথম যেটা জানিয়েছিল ‘না কুচ খায়েঙ্গে না কিসিকো খানে দেঙ্গে’ সেভাবেই আদালতে রাজ্য সরকারি আইনজীবীদের আবেদন একেবারেই স্পষ্ট। তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে তাদের অবস্থান স্পষ্ট ছিল মিউটেশন থেকে রেজিস্ট্রেশন যাবতীয় ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দিতে হবে। কিন্তু অতিরিক্ত কোনও টাকা নেওয়া যাবে না। তবুও অসাধু কিছু মানুষ তৎকালীন সরকারকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রমরমিয়ে তুলেছে টাকা। আর তাতেই বিপদ বেড়েছে সাধারণ মানুষের এমনটাই অভিযোগ।

বাড়ির মিউটেশনের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগে বিধাননগর পুরসভার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় রাজ্য ও পুরসভার ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে কলকাতা হাই কোর্ট। বুধবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরী জানতে চান, যখন আগের রাজ্য সরকার লিখিতভাবে জানিয়েছিল মিউটেশনের সঙ্গে অতিরিক্ত লেভি বা সারচার্জ আদায়ের কোনও সরকারি অনুমোদন নেই। সেই সঙ্গে বর্তমান সরকারও আদালতে একই অবস্থানের কথা জানিয়েছে, তখন এত বছর ধরে আদায় হওয়া অর্থের হিসেব কোথায়?

মামলাকারীদের পক্ষের আইনজীবী আদালতে নথি পেশ করে দাবি করেন, বিষয়টি একটি প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির দৃষ্টান্ত। বুধবার মামলাকারীদের পক্ষের আইনজীবী অরিন্দম দাস আদালতে অভিযোগ করেন, ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষে তৎকালীন মেয়র সব্যসাচী দত্তের আমলে পুরসভার বোর্ড বৈঠকে আর্থিক সংকটের কারণ দেখিয়ে মিউটেশনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।


শুনানিতে বিচারপতি রাজা বাসু চৌধুরীর মন্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে যদি এই অর্থ সংগ্রহ করা হয়ে থাকে, তবে তার পূর্ণাঙ্গ হিসেব আদালতের সামনে পেশ করা আবশ্যক। এরপর তিনি রাজ্য সরকার ও বিধাননগর পুরসভাকে আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে মিউটেশনের নামে আদায় করা অর্থ-সংক্রান্ত সমস্ত নথি আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

মামলাকারী পক্ষের আইনজীবীর দাবি, কলকাতা পুরসভা ছাড়া রাজ্যের অধিকাংশ পুরসভায় বাড়ি, ফ্ল্যাট বা অন্যান্য নির্মাণের মিউটেশনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফি-র অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। মামলাকারীদের আইনজীবী অরিন্দম দাস আদালতে জানান, সল্টলেকের সেক্টর ফাইভের একটি বহুতলে ভ্যালুয়েশন অনুযায়ী একটি ফ্ল্যাটের মিউটেশন ফি ৩০০ টাকা হওয়ার কথা থাকলেও সেখানে প্রায় ২ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়েছে। এই অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করেই কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছে।