প্রসঙ্গত, দেড়শো বছরেরও বেশি সময় পার করলেও বর্ধমান পুরসভা এখনও পুরনিগমের মর্যাদা পায়নি। জেলার সদর শহর হিসেবে বর্ধমানের গুরুত্ব ক্রমশ বাড়লেও নাগরিক পরিষেবা ও পরিকাঠামো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা দাবি রয়েছে। রাস্তা, নিকাশি, পানীয় জল-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সরব হয়েছেন বাসিন্দারা। এই পরিস্থিতিতে পুরনিগম গঠনের পরিকল্পনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র বলেন, ‘ভালো পরিষেবা পেতে গেলে আপগ্রেডেশন প্রয়োজন। আগের কোনও সরকার সেই উদ্যোগ নেয়নি। আমরা চেষ্টা করছি বর্ধমানকে কর্পোরেশন করার। এলাকা বাড়বে, বরাদ্দ বেশি হবে, নাগরিক পরিষেবা আরও উন্নত হবে।’ পুরভোটের আগে এই প্রস্তাব অনুমোদিত হলে সীমানা পুনর্বিন্যাস ও এলাকা সম্প্রসারণের পর নির্বাচন পুরনিগমের অধীনেই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মন্ত্রীর ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন শহরের দীর্ঘদিনের বাসিন্দা ও সমাজসেবী মহম্মদ আসরাফউদ্দিন (বাবু)। তাঁর মতে, পুরনিগম হলে উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ বাড়বে এবং বহু পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে। তবে তাঁর আশঙ্কা, পুরনিগম হলে সাধারণ মানুষের করের বোঝাও বাড়তে পারে। বিশেষ করে গরিব পরিবারগুলির উপর যাতে অতিরিক্ত চাপ না পড়ে, সে দিকে নজর দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
শহরের তরুণ ব্যবসায়ী কিরণশঙ্কর মণ্ডল ও অনুপ নাগের মতো অনেকের আশা, পুরনিগম হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার, কর্মসংস্থান এবং পরিকাঠামোর উন্নয়ন ঘটবে। লায়ন্স রিজিয়ন সিক্সের চেয়ারপার্সন জহর মণ্ডলের মতে, কৃষিপ্রধান জেলার সদর শহর পুরনিগম হলে ধান-চালের ব্যবসার পাশাপাশি অন্যান্য বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও উন্নতির সুযোগ তৈরি হবে।
বর্ধমান রাইস ট্রেডার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য চাঁদ কুমার পালও মনে করেন, ব্যবসার প্রসার হলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন। বর্ধমান রাইস মিল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রাজকুমার সাহানা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে ঘোষণার বাস্তবায়ন কত দ্রুত হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে শহরবাসী।