বর্ষা শুরু হতেই উত্তরবঙ্গের সীমান্ত এলাকাগুলিতে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রুখতে বিশেষ সতর্কতা জারি করল সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। শিলিগুড়ি করিডর বা ‘চিকেনস নেক’ সংলগ্ন ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে নদীপথে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। তিস্তা, আত্রেয়ী, গঙ্গাসহ বিভিন্ন আন্তঃসীমান্ত নদীতে ড্রোন, থার্মাল ইমেজার এবং আন্ডারওয়াটার সেন্সরের মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করেছে বিএসএফ।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ষাকালে নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় সীমান্তের বহু এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া জলমগ্ন হয়ে পড়ে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই পরিস্থিতিতে চোরাকারবারি ও অনুপ্রবেশকারীরা নদীপথকে ব্যবহার করে সীমান্ত পেরোনোর চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ। গবাদি পশু পাচার, মাদক চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনাও এই সময় বাড়ে বলে নিরাপত্তা সংস্থাগুলির দাবি।
প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তের বড় অংশই নদী ও জলাভূমি ঘেরা। প্রায় ৫৭টি আন্তঃসীমান্ত নদী এই অঞ্চলের নিরাপত্তাকে আরও জটিল করে তুলেছে। বর্ষায় খরস্রোতা নদীতে স্পিড বোট দিয়ে নজরদারি অনেক সময়ই কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে নদীর চর ও জলপথকে কাজে লাগিয়ে অবৈধ কার্যকলাপের চেষ্টা বেড়ে যায় বলে জানাচ্ছে বিএসএফ।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবার প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। নদীপথে ড্রোন উড়িয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি আন্ডারওয়াটার সেন্সরের মাধ্যমে নদীর নিচ দিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা শনাক্ত করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাতে কার্যকর নজরদারির জন্য থার্মাল ইমেজার ও এআই-নির্ভর ক্যামেরা ব্যবহৃত হচ্ছে।
বিএসএফ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, প্লাবন পরিস্থিতি তৈরি হলে ফ্লোটিং বর্ডার আউটপোস্ট (ভাসমান সীমান্ত চৌকি) বসানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় রাজ্য পুলিশ ও বিএসএফ যৌথভাবে টহলদারি বাড়িয়েছে।