আবার কি দাম বাড়তে চলেছে পাউরুটির? এই প্রশ্ন এখন উঠতে শুরু করেছে সকল মানুষের মধ্যে। মধ্যবিত্তের বাড়িতে এবং অফিসযাত্রীরা পাউরুটির উপর নির্ভর করে থাকে। স্যান্ডউইচ, টোস্ট হোক অথবা ডিম পাউরুটি, প্রত্যেকদিনের খাবারে ব্যবহার হয়ে থাকে ঘরে ঘরে। পথেঘাটে অফিসযাত্রীরাও পাউরুটি খেয়ে থাকেন। সেখানে দাম বাড়ায় খরচ বাড়বে হেঁশেলে এবং চাপ পড়বে অফিসযাত্রীদের পকেটে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বেকারি অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে চিঠি লেখা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে।
সকালের জলখাবার থেকে শুরু করে বিকেলের খিদে মেটাতে পাউরুটি একটা বড় সহায়ক খাদ্যদ্রব্য। সেখানে তার যদি দাম বাড়ে তাহলে সকলের পকেটেই বাড়তি চাপ পড়বে। এবার রাতারাতি বাড়তে চলেছে পাউরুটির দাম। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু নামী বেকারি সংস্থা পাউরুটির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। যার জেরে আমজনতার হেঁশেলের খরচ বাড়তে চলেছে। ডিজেল বিক্রি করা নিয়ে কেন্দ্রের একটি নির্দেশিকা রয়েছে। সেটা দেশের জন্য সহায়ক হলেও প্রভাব পড়েছে পাউরুটি উৎপাদনে। সুতরাং রাজ্যের প্রায় ৩ হাজার বেকারি ও বিস্কুট কারখানাগুলি চাপে পড়ে গিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক নির্দেশিকা জারি করে দেশের তিনটি পেট্রোলিয়াম সংস্থাকে জানিয়ে দিয়েছে, তাদের নিয়ন্ত্রিত পেট্রল পাম্পগুলি থেকে শুধুমাত্র ব্যক্তিগত গাড়ি এবং বাণিজ্যিক গাড়িতেই প্রয়োজনীয় ডিজেল দিতে হবে। খোলা পাত্র, জ্যারিকেন বা ড্রামে ডিজেল-পেট্রল দেওয়া যাবে না।
এই সিদ্ধান্তের ফলে পাউরুটি উৎপাদনে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। বেকারি মালিকদের দাবি, এই নির্দেশিকার জেরেই মাথায় হাত পড়েছে রাজ্যের বেকারি ও বিস্কুট কারখানাগুলির। কারখানার যন্ত্রাংশ চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেল মিলছে না। যার জেরে ইতিমধ্যেই ৯৫ শতাংশ বেকারি তাদের উৎপাদন অর্ধেক করে দিয়েছে। বেশ কিছু গ্রামীণ বেকারি সম্পূর্ণ বন্ধও হয়ে গিয়েছে। এমনকী এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত প্রায় ২৫ লক্ষ শ্রমজীবী মানুষের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের জেরে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারকে।
তাছাড়া উৎপাদন তলানিতে ঠেকায় প্রভাব পড়েছে জোগানেও। রাজ্য জুড়ে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, নার্সিংহোম এবং নানা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রয়োজনীয় পাউরুটির জোগান ব্যাহত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালকে চিঠি দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ বেকারি অ্যাসোসিয়েশন। এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার আর্জি জানিয়েছেন তাঁরা। সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই নির্দেশিকা দ্রুত প্রত্যাহার না করা হলে পাউরুটির দাম বাড়ানো ছাড়া আর কোনও বিকল্প পথ খোলা থাকবে না।