শিলংগামী ইন্ডিগো উড়ানে বোমা-হুমকির চিরকুট, দমদম বিমানবন্দরে তৎপরতা ও তল্লাশি

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

শনিবার সকালে নেতাজি সুভাষচন্দ্র আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শিলংগামী একটি ইন্ডিগোর বিমানের উড়ান ঘিরে বোমাতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে কলকাতা থেকে শিলং-এর উদ্দেশে যাত্রা করার কথা ছিল ৬ই-৭৩০৪ নম্বর বিমানের বোর্ডিং প্রায় সম্পূর্ণ হওয়ার পর হঠাৎই বিমানের শৌচালয় থেকে একটি হুমকির চিরকুট উদ্ধার হয়। সেখানে লেখা ছিল, বিমানে বোমা রাখা হয়েছে এবং গোটা বিমানবন্দর উড়িয়ে দেওয়া হবে।

এই ঘটনা সামনে আসতেই তৎপর হয়ে ওঠে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। মুহূর্তের মধ্যে সতর্কতা জারি করা হয়। যাত্রীদের দ্রুত বিমান থেকে নামিয়ে আলাদা আইসোলেশন বে-তে নিয়ে যাওয়া হয়। বিমানটিকে নির্দিষ্ট বিচ্ছিন্ন জায়গায় সরিয়ে নিয়ে শুরু হয় পূর্ণাঙ্গ তল্লাশি নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিআইএসএফের বম্ব স্কোয়াড ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। দমকল বিভাগের আধিকারিকরাও উপস্থিত থেকে পুরো বিমান খুঁটিয়ে পরীক্ষা করেন।

তল্লাশির কারণে নির্ধারিত সময়ে বিমানটি ছাড়তে পারেনি। বিমানবন্দর সূত্রে খবর,প্রাথমিকভাবে কোনও বোমা পাওয়া যায়নি। চিরকুটটি কে বা কারা রেখে গিয়েছিল তা স্পষ্ট নয়। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ঘটনার তদন্তে নেমেছেন। চিরকুটের লেখার ধরন ও কাগজের উৎসও পরীক্ষা করা হচ্ছে।


এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে যাত্রীদের মধ্যে। অনেকেই জানান, হঠাৎ করে বিমান থেকে তাঁদের নামিয়ে দেওয়ায় প্রথমে তাঁরা কী ঘটছে তা বুঝতে পারেননি।। পরে বোমা-হুমকির কথা জানানো হলে সকলের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ে। বিকল্প উড়ান ঘোষণা না করা নিয়েও কিছু যাত্রী অভিযোগ করেছেন। বিমানটি বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দিতে পারে বলে সূত্রের খবর।

উল্লেখ্য, এর আগেও ইন্ডিগোর উড়ানে বোমা-হুমকির ঘটনা ঘটেছে।চলতি বছরের জানুয়ারিতে দিল্লি থেকে বাগডোগরাগামী একটি উড়ানকে ২২২ জন যাত্রীসহ জরুরি ভিত্তিতে লখনউয়ে অবতরণ করিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। গত বছর কলকাতা-মুম্বই রুটের ৬ই-৫২২৭ নম্বর বিমানে একই ধরনের হুমকি আসে ফোনে। সেবার ১৯৫ জন যাত্রীকে নামিয়ে তল্লাশি চালানো হলেও কোনও বোমা পাওয়া যায়নি। সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে বিভিন্ন বিমানবন্দরে এ ধরনের ভুয়ো হুমকি বাড়ায় উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলির বক্তব্য, হুমকি সত্যি হোক বা ভুয়ো, প্রতিটি বার্তাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়, কারণ সামান্য অসতর্কতাও বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।