সল্টলেকের এ-ই ব্লকের একটি বন্ধ বাড়ি থেকে বৃহস্পতিবার এক দম্পতির দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়ায়। পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতরা হলেন সজল কুমার কুণ্ডু (৬৪) ও তাঁর স্ত্রী রঞ্জনা কুণ্ডু (৬১)। খবর পেয়ে বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ দু’টি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সজল ও রঞ্জনার ছেলে এবং পুত্রবধূ বুধবার এক আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়েছিলেন। বাড়িতে ছিলেন শুধু ওই দম্পতি। বৃহস্পতিবার সকালে ছেলে একাধিকবার ফোন করলেও কোনও সাড়া না মেলায় তিনি এক প্রতিবেশীকে বিষয়টি জানান। প্রতিবেশী বাড়িতে গিয়ে দরজায় তালা দেখতে পান। ডাকাডাকি করেও কারও সাড়া পাওয়া যায়নি। সন্দেহ হওয়ায় তিনি আশেপাশের লোকজনকেও বিষয়টি জানান। পরে ছেলে ফিরে এসে দরজা খুলতেই ঘরের বিছানায় দম্পতির নিথর দেহ দেখতে পান। এরপরই পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, রঞ্জনা কুণ্ডু দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। সজল কুণ্ডুও অসুস্থ ছিলেন। দীর্ঘদিনের শারীরিক অসুস্থতার কারণে দু’জনেই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন বলে পরিবারের দাবি। সেই কারণেই তাঁরা চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
পুলিশ জানতে পেরেছে বুধবার স্ত্রীকে নিয়ে উল্টোডাঙায় শ্বশুরবাড়িতে গিয়েছিলেন দম্পতির ছেলে। ওই দিন রাত ১০টা নাগাদ বাবা-মায়ের সঙ্গে ফোনে শেষ করা হয়েছিল। রাতের পর এদিন সকালে আবার ফোন করেন তিনি। কিন্তু ফোন বন্ধ থাকায় প্রতিবেশীকে ফোন করেন।
ঘর থেকে একটি বিষেক বোতল উদ্ধার হয়েছে। তবে ঘটনাস্থল থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়নি। পুলিশ অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা মিলবে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।