ভোটকর্মীদের প্রশিক্ষণ শিবিরের ভেতরেই এক প্রশিক্ষণার্থীকে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠল খোদ সরকারি কর্মীদের বিরুদ্ধে। শুক্রবার রানাঘাট দেবনাথ স্কুলে আয়োজিত প্রশিক্ষণ শিবিরে এই ঘটনাটি ঘটে। আক্রান্তের দাবি, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষ প্রশিক্ষণের বদলে সেখানে শাসক দলের প্রচার চালানো হচ্ছিল। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রানাঘাটের বিডিও।
শুক্রবার রানাঘাটের বিডিওর তত্ত্বাবধানে দেবনাথ স্কুলে ভোটকর্মীদের প্রশিক্ষণ চলছিল। প্রশিক্ষণ নিতে আসা সৈকত চক্রবর্তী নামে এক ব্যক্তির অভিযোগ, শিবিরের ভেতরে থাকা ‘জায়েন্ট স্ক্রিনে’ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী প্রচার চালানো হচ্ছিল। সরকারি প্রশিক্ষণ শিবিরে কেন রাজনৈতিক প্রচার চলবে, এই প্রশ্ন তুলে সৈকত প্রতিবাদ জানান। তাঁর সঙ্গে আরও বেশ কিছু ভোটকর্মী সহমত পোষণ করেন।
আক্রান্ত সৈকত চক্রবর্তীর অভিযোগ, প্রতিবাদ করতেই স্থানীয় বিডিও অফিসের বেশ কিছু কর্মচারী তাঁর ওপর চড়াও হন। তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার পাশাপাশি বেধড়ক মারধর করা হয়। মারধরের জেরে তিনি রক্তাক্ত হন। সৈকতের দাবি, আমি ট্রেনিং করতে এসে দেখি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি দিয়ে প্রচার চলছে। প্রতিবাদ করায় আমাকে মারধর করা হয়েছে এবং খুনের হুমকি দেওয়া হয়েছে। বিডিওকে জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। এই ঘটনায় তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদিও রানাঘাটের বিডিও সায়ন্তন ভট্টাচার্য বলেন, ‘মাস্টারমশাই সৈকতবাবুর অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ধাক্কাধাক্কি হয়েছে শুনেছি। কারা কারা ছিল আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।’
এই ঘটনার পর ওই বিদ্যালয়ে বিক্ষোভ দেখান ভোটকর্মীরা। এদিনের মত ট্রেনিং বন্ধ হয়ে যায়।