তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্তকে ডিম, গোবর ছোঁড়ার পরে এ বার রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের জন্য জুতোর মালা নিয়ে বিধাননগর দক্ষিণ থানার বাইরে অপেক্ষা করছেন সাধারণ মানুষ। সোমবার সকালে দ্বিতীয় বারের জন্য হাজিরা দেন প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী। থানার বাইরে জুতোর মালা নিয়ে অপেক্ষায় এক দল। ঘটনাচক্রে গত বৃহস্পতিবার থানায় হাজিরা শেষে অরূপ বিশ্বাসকে লক্ষ্য করে আলিপুর জাজেস কোর্ট চত্বরে ডিম ছোঁড়ার ঘটনা ঘটেছিল।
এ দিন বিধাননগর দক্ষিণ থানার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা সঞ্জয় পয়রা জানান, মেসির কলকাতা সফরের সময়ে যে কাণ্ড প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী ঘটিয়েছেন, তার জন্যই জুতোর মালা আনা হয়েছে। ঘটনাচক্রে তাঁর নেতৃত্বে এর আগে তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্তকে গ্রেপ্তারির পরে বিধাননগর উত্তর থানা থেকে বেরোনোর পথে বিজেপি-কর্মীদের গোবর নিয়ে দেখা গিয়েছিল।
গত বছর ১৩ ডিসেম্বর সল্টলেকের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মেসির অনুষ্ঠান ছিল। অভিযোগ ওঠে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী এবং তাঁর সঙ্গীরা মেসিকে ঘিরে থাকায় মাঠের মধ্যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়। প্রায় ২০ মিনিট থাকার পর সেখান থেকে বেরিয়ে যান মেসি, সুয়ারেজ এবং ডি পলেরা। যেটুকু সময় স্টেডিয়ামে ছিলেন দর্শকরা তাঁদের ঠিক মতো দেখতে পারেননি বলে অভিযোগ ওঠে। মেসি স্টেডিয়াম ছাড়ার পরেই জনরোষ আছড়ে পড়ে যুবভারতীতে।।
গ্রেপ্তার করা হয় মেসির কলকাতা সফরের মূল আয়োজক শতদ্রু দত্তকে। পরে জামিনে মুক্ত হন তিনি। রাজনৈতিক পালাবদলের পর প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মেসির অনুষ্ঠানে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে গত ১৭ মে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় এফআইআর দায়ের করেছিলেন অনুষ্ঠানের মূল আয়োজন শতদ্রু দত্ত। টিকিট কালোবাজারি, চাঁদাবাজি, প্রতারণা, ভয় দেখানো এবং অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গাফিলতির মতো অভিযোগ আনা হয়। অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।
৪ জুন অরূপ বিশ্বাসকে থানায় হাজিরার নির্দেশ দেয় পুলিশ। শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি হাজিরা এড়িয়ে যান। দু-সপ্তাহের সময় চান তিনি। তবে সেই আবেদন মেনে নেয়নি তদন্তকারী সংস্থা। ৮ জুন ফের হাজিরা দিতে বলা হয়। তিনবার হাজিরা এড়ানোর পর গত বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন প্রথমবার অরূপ বিশ্বাস থানায় হাজিরা দেন। তবে সেদিন আদালত চত্বরে তাঁকে ঘিরে আইনজীবীদের একাংশ বিক্ষোভ দেখান। পুলিশের ঘেরাটোপে তাঁকে আদালত চত্বর থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়। সেদিনের পর আজ সোমবার ফের থানায় হাজিরা দিয়েছেন অরূপ বিশ্বাস।