‘বিজেপি ঘোড়া কেনাবেচা করবে’, বাংলায় অপারেশন লোটাস নিয়ে সরব মমতা

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

প্রথম দফা ভোট পর্ব শেষ হয়েছে। আগামী ২৯ তারিখ দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ। কিন্তু তার আগেই সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। গেরুয়া শিবিরের তরফে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দাবি, প্রথম দফার ১৫২টি আসনের মধ্যে তারা ১১০টির বেশি আসন পাবে। অন্যদিকে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে বলা হচ্ছে, তারা ১৩০টিরও বেশি আসনে জয়লাভ করবে। প্রতিটি দলই নিজেদের নির্বাচনী বিশ্লেষকদের দিয়ে হিসেব কষছে এবং সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে আত্মবিশ্বাসী।

এই আবহে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি গুরুত্বপূর্ণ আশঙ্কার কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, যদি তৃণমূল দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারে, তাহলে বিজেপি পরবর্তীতে বিধায়ক কেনাবেচার মাধ্যমে সরকার ভাঙার চেষ্টা করতে পারে। তাই তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে আহ্বান জানিয়েছেন, জোড়াফুল চিহ্নে ভোট দিয়ে তৃণমূল প্রার্থীদের বিপুল ব্যবধানে জয়ী করতে।

গত দেড়মাস ধরে সারা রাজ্যে প্রচার চালিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রচারপর্ব শেষে এবার তিনি নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরে জনসংযোগ চালাচ্ছেন। যদিও এই কেন্দ্র তাঁর পরিচিত ঘাঁটি, তবুও প্রচারে কোনও ঢিলেমি রাখছেন না। সন্ধ্যায় ডাঃ রাজেন্দ্র রোড এবং জাস্টিস দ্বারকানাথ রোডের সংযোগস্থলের জনসভায় তিনি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষকে নিয়ে প্রচার চালান।


এক জনসভায় তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, তাঁদের সরকারই ফের ক্ষমতায় আসবে এবং দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনিই নেতৃত্ব দেবেন। তিনি আরও বলেন,‘দুই তৃতীয়াংশ আসন যদি আমরা না পাই, তাহলে বিজেপি বসে আছে, বিধায়কদের কিনতে। যেভাবে ওরা মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশে সরকার করেছে। তাই আমার আবেদন, যে ১৪২ টি আসনে পরদিন ভোট আছে, আপনারা তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীদের ভোট দিতে বিপুল আসনে জয়ী করুন।‘ এছাড়াও তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তিনি চতুর্থবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী।

অন্যদিকে ক্যামাক স্ট্রিটে নির্বাচনী প্রচারে আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে মমতা বলেন, ‘ভরসা রাখুন। ১৪ বছর রয়েছি, দেখেছেন কোনও গড়বড় হয়েছে? জুমলা করেছে কেউ? বিজেপি বলে, মহিলারা বাংলায় রাস্তায় চলতে পারে না। বলে সব ঝুপড়ি। এখানে গরিবদের থাকারও অধিকার রয়েছে। আগে দিল্লি সামলাও। পহেলগাম সামলাও। ওখানে যখন হামলা হল, সাঁজোয়া গাড়ি কেন পাঠাওনি? এখানে কেন পাঠালে?’ একইসঙ্গে ভোটারদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা—নিজের ভোট নিজে দিন এবং ভোটার স্লিপ সংরক্ষণ করে রাখুন।

সভায় তিনি কেন্দ্রীয় বাহিনী ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, বাইরের লোক এনে ভোটের পরিবেশ প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। এমনকি ভোটের পরেও কিছু এলাকায় নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। যদিও বিরোধী পক্ষ এই অভিযোগ মানতে নারাজ।

কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধেও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। জিএসটি-র মাধ্যমে রাজ্যের প্রাপ্য অর্থ বঞ্চিত করা হচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ। তিনি জানান, রাজ্য সরকার নতুন করে কোনও কর চাপায়নি; বরং স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা ও বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।

প্রথম দফার ভোটের ফল নিয়ে আশাবাদী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, প্রথম দফাতে ‘সেঞ্চুরি’ পার করে ফেলেছি হয়েছে এবং দ্বিতীয় দফাতেও একই ফলের প্রত্যাশা রয়েছে। তাঁর মতে, এই কারণেই বিরোধী শিবির চাপে রয়েছে। ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী মানুষের জন্য বিমা ও আর্থিক সহায়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন।সবশেষে সর্বধর্ম সমন্বয়ের বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, বাংলার শক্তি তার বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য—এখানে সব সম্প্রদায়ের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করেন।