রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলে আসছেন, এটি ‘বিজেপির সরকার’ নয়, ‘পশ্চিমবঙ্গ সরকার’। সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত মন্ত্রীসভা ও বিধানসভা নেবে, আর রাজনৈতিক দল হিসেবে বিজেপি ভাল উদ্যোগকে সমর্থন করবে এবং প্রয়োজন হলে গঠনমূলক মতামত জানাবে। বুধবার সল্টলেকে রাজ্য বিজেপির দপ্তরে দলের প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকারের সাংবাদিক বৈঠকে সেই অবস্থানেরই প্রতিফলন দেখা গেল।
সাংবাদিক বৈঠকে দেবজিৎ সরকার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকারের সাম্প্রতিক একাধিক সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। তিনি জানান, ৮২ হাজার কোটিরও বেশি টাকার ১৯টি পরিকাঠামো প্রকল্প, যার মধ্যে রাস্তা, রেল, মেট্রো, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস সংক্রান্ত প্রকল্প রয়েছে। সেগুলি রাজ্যের শিল্প ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে নতুন গতি দেবে। দীর্ঘদিন আটকে থাকা প্রকল্পগুলির দ্রুত বাস্তবায়ন এবং সেগুলির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে ‘প্রজেক্ট মনিটরিং গ্রুপ’ গঠনের উদ্যোগকেও ইতিবাচক বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গ্রামীণ উন্নয়নের জন্য কেন্দ্র অনুমোদিত ৮,৫০৮ কোটি টাকা এবং মোট ১২,৮৬৪ কোটি টাকার বরাদ্দকে স্বাগত জানিয়ে দেবজিৎ জানান, এই অর্থে গ্রামীণ রাস্তা, সেচ ব্যবস্থা, পুকুর সংস্কার, স্কুল ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র নির্মাণের মতো কাজ হলে গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আওতায় নতুন এক লক্ষ গ্রামীণ বাড়ির অনুমোদনকে সাধারণ মানুষের জন্য বড় পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রকৃত উপভোক্তাদের হাতে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে সেই সুবিধা পৌঁছতে হবে। অতীতের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি হওয়া চলবে না।
এছাড়াও মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর জন্য ২৯৫ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা, মালদায় ক্লিন প্ল্যান্ট সেন্টার গড়ে তোলা, পশ্চিমবঙ্গকে পূর্ব ভারতের ‘সিড হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা, প্রাকৃতিক ও ডিজিটাল কৃষির প্রসার, প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা, কিষাণ ক্রেডিট কার্ডের সম্প্রসারণ এবং রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের সিদ্ধান্তকেও স্বাগত জানায় বিজেপি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ককরোজ জনতা পার্টির ডাকা আন্দোলন প্রসঙ্গেও সরব হন দেবজিৎ সরকার। তাঁর দাবি, এটি একটি অ্যান্টি-ন্যাশনাল মুভমেন্ট। যাঁরা এই আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন বা সমর্থন করছেন, তাঁরা দেশবিরোধী শক্তির হাতই শক্ত করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে ‘দুঃখজনক’ বলে উল্লেখ করে দেবজিৎ বলেন, ‘সরকার বিষয়টির সমাধানে যথাসম্ভব ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে সেই ঘটনাকে সামনে রেখে আন্দোলনের নামে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা বা দেশবিরোধী আবহ তৈরি করার কোনও প্রচেষ্টাকেই সমর্থন করা যায় না।’ তাঁর কথায়, গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের অধিকার থাকলেও তা কখনও দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে যেতে পারে না।