জুলাইয়েই বিজেপির সাংগঠনিক রদবদল, মন্ত্রীরা থাকছেন না নতুন রাজ্য কমিটিতে

BJP Preparation Rejinagar By-Election Photo-SNS

চলতি জুলাই মাসেই পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। শুধু রাজ্য কমিটি নয়, জেলা স্তরেও একযোগে ব্যাপক রদবদলের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে বলে দলীয় সূত্রের দাবি। শুক্রবার রাতে দিল্লিতে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যর সঙ্গে বাংলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতা সুনীল বনশলের দীর্ঘ বৈঠকে নতুন সাংগঠনিক রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সেই বৈঠকের পরই রাজ্য সংগঠনে পরিবর্তনের জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে।

দলীয় সূত্রের খবর, আগামী সপ্তাহেই বিজেপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক রদবদলের ঘোষণা হতে পারে। সেই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজ্য ও জেলা কমিটির তালিকায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের লক্ষ্য, আসন্ন সাংগঠনিক কর্মসূচি এবং ভবিষ্যতের রাজনৈতিক লড়াইয়ের কথা মাথায় রেখে দায়িত্বের নতুন বণ্টন নিশ্চিত করা।

সূত্রের দাবি, বৈঠকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ‘এক ব্যক্তি, এক পদ’ নীতি কঠোরভাবে কার্যকর করার বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে। সেই কারণে সম্প্রতি রাজ্যের নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়া বিজেপি বিধায়কদের নতুন সাংগঠনিক কমিটিতে রাখা হবে না। প্রশাসনিক দায়িত্ব এবং সাংগঠনিক দায়িত্ব আলাদা রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক কাজে সক্রিয় এবং জেলার সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত নেতাদের সামনে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।


রাজ্য কমিটির পাশাপাশি জেলা সভাপতিদের ক্ষেত্রেও একাধিক পরিবর্তন হতে পারে বলে সূত্রের খবর। কয়েকটি জেলায় নতুন নেতৃত্ব আনার পাশাপাশি কিছু সাংগঠনিক দায়িত্বের পুনর্বিন্যাসও হতে পারে। দলের একাংশের মতে, সংগঠনকে আরও গতিশীল ও কর্মমুখী করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

শুধু রাজ্যেই নয়, পশ্চিমবঙ্গ থেকে কয়েকজন নেতাকে কেন্দ্রীয় কমিটিতেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজনকে বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে দল এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি।

রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করে তুলতে চাইছে বিজেপি। সেই লক্ষ্যেই প্রশাসন ও সংগঠনের মধ্যে দায়িত্বের স্পষ্ট বিভাজন, নতুন নেতৃত্বকে সামনে আনা এবং সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও সক্রিয় করার কৌশল নিয়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। বনশল-শমীক বৈঠকের পর সেই বার্তাই আরও স্পষ্ট হয়েছে।