বিধানসভা ভঙ্গের সিদ্ধান্তকে সমর্থন বিজেপির, রাজ্যপালের পদক্ষেপ ‘সংবিধানসম্মত’ বলে দাবি রাহুল সিনহার

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভঙ্গের সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। রাজ্যপাল আর এন রবির পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়ে সরব হয়েছে বিজেপি এবং তাদের শরিক দলগুলির নেতারা। তাঁদের দাবি, বিধানসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এবং নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের পরাজয়ের পর সংবিধান অনুযায়ীই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিজেপি সাংসদ রাহুল সিনহা এই প্রসঙ্গে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেন, ‘জনতার রায়ে হারার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্তত পদত্যাগ করা উচিত ছিল। ভবানীপুরেও তিনি হেরেছেন। মানুষের রায়কে সম্মান জানিয়ে সরে দাঁড়ানো উচিত ছিল তাঁর। কিন্তু তিনি তা করেননি। শেষ পর্যন্ত তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হল। এটা অত্যন্ত বড় রাজনৈতিক অপমান।’

বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুও রাজ্যপালের পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন। তাঁর বক্তব্য, সংবিধানের ১৭৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাজ্যপাল এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বিধানসভার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল। এতদিন ধরে কেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় বসে ছিলেন? গোটা দেশ এটা দেখে হাসছিল। মানুষের রায় তিনি মানতে চাইছিলেন না।’


মুম্বাই থেকে শিবসেনা নেত্রী শায়না এনসি-ও এই প্রসঙ্গে বিজেপির পক্ষে সওয়াল করেছেন। তাঁর দাবি, বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। তিনি বলেন, ‘২৯৪টির মধ্যে ২০৭টি আসনে জয় স্পষ্ট জনাদেশ। ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও হেরেছেন। তৃণমূলের ৩৫ জন মন্ত্রীর মধ্যে ২৩ জন পরাজিত হয়েছেন। এত বড় পরাজয়ের পরেও ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার চেষ্টা মরিয়া মানসিকতার পরিচয়।’

উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রী ওমপ্রকাশ রাজভরও বলেছেন, সংবিধান মেনেই রাজ্যপাল পদক্ষেপ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, সরকার গঠনের সাংবিধানিক অধিকার রাজ্যপালের হাতেই থাকে। সেই কারণেই তিনি নিজের ক্ষমতা প্রয়োগ করেছেন। হায়দরাবাদে বিজেপি নেতা টি আর শ্রীনিবাস বলেন, ‘৭ মে-ই তৃণমূল সরকারের কার্যকাল কার্যত শেষ হয়ে গিয়েছিল। সংবিধান অনুযায়ী বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত ছিল। কিন্তু তা হয়নি বলেই রাজ্যপালকে বিধানসভা ভঙ্গ করতে হয়েছে।’

তেলঙ্গানার বিজেপি সভাপতি এন রামচন্দ্র রাও এই ঘটনাকে ‘সাংবিধানিক প্রয়োজন’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, কোনও সরকারের পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হলে বিধানসভা ভঙ্গ হওয়াটাই সংবিধানসম্মত প্রক্রিয়া। বিহারের মন্ত্রী শ্রাবণ কুমারও এই ইস্যুতে মন্তব্য করে বলেন, ‘আইন সবাইকে মানতে হবে। যারা আইন মানে না, তাদের পরিণতি ভোগ করতেই হয়।’

এদিকে নতুন সরকার গঠনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তৎপরতা ক্রমশ বাড়ছে। বিজেপি নেতৃত্ব দ্রুত সরকার গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চাইছে বলে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।