অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড (ইউসিসি) নিয়ে দেশজুড়ে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। রাজ্যে বিজেপির সরকার হতেই সেই বিতর্কের জল গড়িয়েছে পশ্চিমবঙ্গেও। শুভেন্দু অধিকারী সরকার বাংলাতেও ইউসিসি কার্যকর করার লক্ষ্যে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে খবর। অন্যদিকে ইউসিসি নিয়ে বিরোধীরাও সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়াতে শুরু করেছে। এই আবহেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে দলের অবস্থান স্পষ্ট করে দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি ও রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য।
শমীক সাফ জানিয়েছেন, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে বিজেপির অবস্থান নতুন নয়। বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই দলের নির্বাচনী ইস্তেহার এবং রাজনৈতিক অঙ্গীকারের অংশ। এর পিছনে কোনও গোপন উদ্দেশ্য নেই। আইনের দৃষ্টিতে দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমান অধিকার এবং সমান দায়িত্ব নিশ্চিত করাই ইউসিসির মূল লক্ষ্য। ইউসিসি চালু হলে আদিবাসী ও তফসিলি জনজাতির নিজস্ব সংস্কৃতি, রীতি-নীতি ও সামাজিক প্রথা বিপন্ন হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিরোধীরা। বিরোধীদের সেই আশঙ্কাকেও উড়িয়ে দিয়েছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, সংবিধানের ৩৬৬ (২৫) এবং ৩৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্বীকৃত তফসিলি জনজাতির সদস্যদের এই আইনের আওতার বাইরে রাখা হবে। ফলে তাঁদের ঐতিহ্য, সামাজিক প্রথা এবং সাংবিধানিক অধিকার সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকবে। বাংলায় ইউসিসি নিয়ে জল্পনা বাড়তেই তৃণমূল-সহ বিরোধী দলগুলি আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের উপর এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, সেই প্রেক্ষাপটে শমীক ভট্টাচার্য এই মন্তব্য করেছেন। যা রাজ্য রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
অভিন্ন দেওয়ানি বিধি সম্পর্কে শমীক বলেন, ‘বর্তমানে বিবাহ, বিবাহ-বিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, দত্তক গ্রহণ-সহ বিভিন্ন সামাজিক বিষয়ে ধর্মভিত্তিক পৃথক ব্যক্তিগত আইন চালু রয়েছে। এর ফলে আইনি বৈষম্য তৈরি হয়। কিন্তু বিজেপি চায়, দেশজুড়ে একটি অভিন্ন নাগরিক আইন চালু হোক। তাতে দেশের সাংবিধানিক সমতা, ন্যায়বিচার এবং জাতীয় ঐক্য আরও সুদৃঢ় হবে।’
একই সঙ্গে বহু-বিবাহের মতো কিছু ব্যক্তিগত আইনের বিশেষ বিধান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শমীক। তাঁর দাবি, ইউসিসি কার্যকর হলে এই ধরনের বৈষম্যমূলক ব্যবস্থার অবসান ঘটতে পারে। বিরোধীদের একাংশের দাবি, ইউসিসির মাধ্যমে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ বা সন্তানসংখ্যা নির্ধারণের চেষ্টা করা হবে। বিরোধীদের সেই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও গুজব বলে জানিয়েছেন বিজেপি নেতা। শমীকের সাফ কথা, ইউসিসি নিয়ে বিভ্রান্তির কোনও কারণ নেই। ইউসিসি চালু হলে একদিকে যেমন সকল নাগরিকের জন্য সমান আইন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য পূরণ হবে, ঠিক তেমনই সংবিধান-প্রদত্ত তফসিলি জনজাতির বিশেষ রক্ষাকবচও অক্ষুণ্ণ থাকবে।