বাংলায় জঙ্গলরাজ কায়েম করতে চায় বিজেপি, অভিযোগ মমতার

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনী প্রচারে ঝড় তুলেছেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার পশ্চিম মেদিনীপুরে চন্দ্রকোনা ও গড়বেতায় এবং বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরে একটি করে জনসভা করেন তৃণমূলনেত্রী।  তিন সভা থেকেই একযোগে কমিশন ও বিজেপিকে আক্রমণ শানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সাফ কথা, বাংলায় জঙ্গলরাজ কায়েম করতে চায় বিজেপি। একই সঙ্গে দলের নেতা-কর্মীদের একসঙ্গে চলার পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি আলু চাষিদের আশ্বাস দিয়ে বলেন, আলু নিয়ে দুশ্চিন্তা করবেন না। রাজ্য সরকার আপনাদের আলু কিনবে। দরকারে আপনারা বাড়তি আলু বাইরে বিক্রি করুন।

বিজেপি-কে তোপ দেগে মমতা বলেন, ‘যতই দাও নোট, হবে নাকো ভোট। ওই নোটটাও চুরি করা। পাপীদের হাত থেকে নোট নেবেন না, তা হলে সারাজীবন ভুগতে হবে। মনে রাখবেন, তৃণমূল না জিতলে আপনার ভাষা, বাসস্থান, ঠিকানা, ব্যবসা, মাছ-ভাত, আপনার নিজের খাবার-সহ সব কেড়ে নেবে। রাজ্যটাকেই কেড়ে নেবে। তখন কোথায় যাবেন? তখন ওরা ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠাবে। তবে আমি থাকতে কোনও ডিটেনশন ক্যাম্প ও এনআরসি করতে দেব না। চালাকি করে ভোটের তিন মাস আগে এসআইআর করেছে।’

নেত্রীর অভিযোগ, বিজেপি বুঝে গিয়েছে তারা কিছু করতে পারবে না। তাই ওরা ভিন রাজ্যের মানুষের নাম এ রাজ্যের ভোটার তালিকায় তুলছে। সোমবার ৩০ হাজার নাম ঢুকিয়েছে। আবার অনেক ভোটারের নামে আপত্তিও জানিয়েছে। ভুয়ো ভোটাররা যাতে ভোট দিতে না পারে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখার জন্য দলীয় কর্মীদের নির্দেশ দেন তিনি।


এদিনের তিন জনসভা থেকেই কমিশনকেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন নেত্রী। তিনি বলেন, ‘হঠাৎ এত তাড়াহুড়ো কিসের? ২০০২ সালের পর কেন এতদিন এসআইআর করোনি? কেন পশ্চিমবঙ্গকে নিশানা করা হচ্ছে? ২০২৪-এর ভোটার তালিকায় থাকা ভোটাররাই তো মোদিজীকে ভোট দিয়ে প্রধানমন্ত্রী করেছেন। তাহলে স্পেশাল রিভিশন কেন?’ মমতার অভিযোগ, কমিশন বিজেপির কথা মতোই এই চক্রান্ত করছে।

তৃণমূল নেত্রীর অভিযোগ, বিজেপি কখনও কোনও প্রতিশ্রুতি পূরণ করে না। ওরা বছরে ২ কোটি চাকরি দেবে বলেছিল। কিন্তু কাউকেই চাকরি দেয়নি। কোথায় গেল সেই চাকরি? বরং তিনি চাকরি দিতে গেলে কোর্টে গিয়ে সেই চাকরি আটকে দিয়েছে। বিজেপি সংবিধান মানে না। মানুষকে মানুষ বলে গণ্য করে না। একই সঙ্গে মমতার আশ্বাস, তিনি যা বলেন সেটা করেন। জাত-পাত, বর্ণ, ধর্ম নির্বিশেষে সকলকে লক্ষ্মী ভাণ্ডারের টাকা দেওয়া হয়।  বেকার ছেলেমেয়েদের জন্য যুবসাথী প্রকল্প চালু হয়েছে। বাম আমলে সরকারি কর্মীরা কবে বেতন পাবেন সেটা কেউ জানত না। কিন্তু তাঁর সরকার মাস পয়লায় বেতন দেয়। সরকারি কর্মীরা ২৫ শতাংশ ডিএ-ও পেয়ে গিয়েছে বলে নেত্রী জানান।

এদিন গড়বেতার সভায় অতীতের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘এক সময় জঙ্গলমহলে ছিল সন্ত্রাসের রাজত্ব। মানুষ ঘর থেকে বাইরে বেরোতে পারতেন না। চার দিকে রক্ত ঝরেছে। বছরে ৪০০-র বেশি মানুষ মারাও গিয়েছেন। অনেক পুলিশকর্মীও খুন হয়েছিলেন। কিন্তু সেই দিন আর নেই। জঙ্গলমহলে এখন অপার শান্তি। তবে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে আবার অশান্তি পাকাবে। তাই ওই কথা মনে রাখবেন। ওদের একটা ভোটও দেবেন না।’

দুই মেদিনীপুর ও হুগলি আলু চাষের জন্য বিখ্যাত। সেকথা মাথায় রেখে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘চিন্তা করবেন না। সরকার আপনাদের আলু কিনে নেবে। তারপরেও বাড়তি আলু থাকলে বাইরে বিক্রি করুন। কৃষকদের যেমন শস্যবিমা আছে, তেমন আলুচাষিদের জন্যও আমরা শস্যবিমা করেছি। কারও একটি আলুও নষ্ট হলে, তিনি ক্ষতিপূরণ পাবেন।’ একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, কিছু বিজেপি নেতা আলুচাষিদের নিয়ে রাজনীতি করছে। তাঁদের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কেউ চাষির পেটের ভাত মারবেন না। চাষিদের নিয়ে রাজনীতি করবেন না। চাষিদের নিয়ে রাজনীতি করা হলে তিনি ভয়ানক হয়ে যাবেন।

মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, কেন্দ্রের বিজেপি সরকার রাজ্যের প্রাপ্য ১০০ দিনের কাজের টাকা, পানীয় জল প্রকল্প, রাস্তাঘাট সব কিছুর টাকা আটকে রেখেছে। বিজেপির একটাই উদ্দেশ্য, বাংলার উন্নয়নে বাধা দেওয়া। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী জানান, গত ১৫ বছরে তাঁর সরকার জঙ্গলমহল-সহ গোটা বাংলার উন্নয়নে কী কী কাজ করেছে।