‘যদ্দিন দেহে আছে প্রাণ, প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল’, মেয়ের স্মরণসভায় বিধায়ক মায়ের অঙ্গীকার

BJP MLA Ratna Debnath Photo-SNS

তারিখটা ছিল ৯ আগস্ট। দু’বছর আগে এই তারিখেই আরজি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছিল। তারপর কেটে গিয়েছে বহু সময়। চড়াই উতরাই পথ বেয়ে এখন অভয়ার মা বিজেপির পানিহাটি বিধানসভার বিধায়ক। কিন্তু দুটি বছর কেটে গেলেও মেয়ের স্মৃতি আজও আঁকড়ে ধরে রয়েছেন তিনি। কারণ এটাই একমাত্র তাঁর বাঁচার সম্বল। এবার আবার সেই তারিখটি আবার কালের গতিতে সামনে এলো। আর রবিবার মেয়ের স্মরণসভা থেকেই আগামী প্রজন্মের জন্য অঙ্গীকার করলেন মা তথা বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথ।

রবিবার মেয়ের স্মরণসভায় দাঁড়িয়ে অতীতের আদর থেকে শুরু করে মেয়ের শৈশব, স্বপ্ন আর মর্মান্তিক পরিণতির কথা স্মরণ করলেন আরজি করের নির্যাতিতার মা রত্না দেবনাথ। পানিহাটির লোকসংস্কৃতি ভবনে আয়োজিত প্রথম ‘অভয়া’ স্মরণসভার মঞ্চে তখন বসে মুখ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং বিশিষ্টজনেরা। সেখানেই আবেগঘন এবং লড়াকু বক্তব্য রাখেন তিনি। যা মন্ত্রমুগ্ধের মতো শোনেন সকলে। গোটা সভাকক্ষে তখন পিন পড়ার নীরবতা। এক মায়ের আর্তনাদ এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর লড়াইয়ের যে অঙ্গীকার সকলে শুনলেন তাতে গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল উপস্থিত সকলের।

সিবিআই তদন্ত আগেও করেছে এখনও চলছে। কলকাতা পুলিশকে দিয়ে নতুন করে পৃথক তদন্ত করা হচ্ছে। আবার স্বাস্থ্যদপ্তরও তদন্ত শুরু করেছে। এই আবহে এদিনের স্মরণসভায় রত্না দেবনাথের কণ্ঠে উঠে এলো, ‘আমার মেয়েটা এত শান্ত ছিল, বাড়িতে কেউ থাকলেও বুঝতে পারত না। ছোটবেলা থেকে বলত, মা, আমি ডাক্তার হব। আমরা ঈশ্বরপ্রদত্ত একটা ডায়মন্ড পেয়েছিলাম, যাকে হারিয়ে ফেলেছি। সারারাত না ঘুমিয়ে ওর সঙ্গে কত রাত কাটিয়েছি তার হিসাব নেই। সব কাজ শেষে বাড়ি ফিরে রাতের ওই সময়টা শুধু আমার মেয়ের সঙ্গেই কাটত। এখনও সেটাই আমার সঙ্গী। কিন্তু আমি চাই না আর কোনও মেয়ে তার স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে এভাবে হারিয়ে যাক।’


আরজি কর ফাইলস খুলেছে। কিন্তু অভয়ার মা-বাবা এখনও বিশ্বাস করেন এই ঘটনায় একজন কেউ দোষী নয়, আরও অনেকে আছে। এই ঘটনার নেপথ্যে অনেক কারণ আছে বলে মনে করেন তিনি। তাই স্মরণসভার মঞ্চ থেকে রত্না দেবনাথ বলেন, ‘ও হয়তো হাসপাতালে কিছু জেনে ফেলেছিল, তাই খুব ভয়ে ছিল। বলত, মা, আমাকে অনেক পড়তে হবে, না হলে ওরা ফেল করিয়ে দেবে। এই ভয়টা ও গত দু’মাস ধরে পেয়েছিল। অপরাধীরা যতই চেষ্টা করুক, তাদের পাপের ফল তাদের পেতেই হবে। যারা আমার মেয়েকে এই পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিয়েছে, দুর্ভাগ্য তাদের, আমাদের কোনও দুর্ভাগ্য নয়। তাই যদ্দিন দেহে আছে প্রাণ, প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল। আমার দেহের রক্তে এই নতুন শিশুকে করে যাব আশীর্বাদ। তারপর সব কাজ সেরে চলে যাব আমি। তবে এই পৃথিবীকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।’