‘বাংলাদেশিদের ফুল-মিষ্টি- ছাতা দিয়ে বিদায় করুন’, অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে কড়া সুর বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষের

রাজ্যে অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপের মাঝেই এবার সরব হলেন বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ। মালদহের পর লালগোলাতে  ‘হোল্ডিং সেন্টার’ চালু হওয়ার পর অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, বেআইনিভাবে এ দেশে থাকা বিদেশি নাগরিকদের আর কোনোভাবেই আশ্রয় দেওয়া উচিত নয়, বরং সম্মানের সঙ্গেই তাঁদের নিজেদের দেশে ফেরত পাঠানো হোক।
সজল ঘোষ বলেন, ‘যাঁরা অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে এ দেশে ঢুকেছেন, তাঁদের নিয়ে এত মানবিকতার নাটক করার কোনও অর্থ নেই। ফুল, মিষ্টি, ছাতা, বেলপাতা দিয়ে সসম্মানে তাঁদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হোক। এটা তো খুব স্বাভাবিক বিষয়। আপনি যদি অন্য দেশের নাগরিক হন, তাহলে সেই দেশে স্থায়ীভাবে থাকার অধিকার আপনার নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ কি ভারতের নাগরিকদের সেখানে থেকে যাওয়ার অনুমতি দেবে? কোনও দেশই তা দেয় না। প্রত্যেক দেশের নিজস্ব আইন ও সীমান্ত রয়েছে। তা হলে ভারতে এসে বেআইনিভাবে বসবাস করলে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না? নিজের বাড়িতেও তো কেউ অচেনা লোককে চিরকাল থাকতে দেয় না। তাহলে দেশের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম হওয়া উচিত।’
বিজেপি বিধায়কের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে অনুপ্রবেশ, জাল নথি তৈরি এবং বেআইনি বসবাস বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁর কথায়, ‘অনুপ্রবেশ শুধু নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়, এটা দেশের অর্থনীতি, প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের অধিকারের সঙ্গেও জড়িত। দেশের সম্পদ দেশের নাগরিকদের জন্য। তাই অবৈধভাবে থাকা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে দ্রুত প্রত্যর্পণ করাই উচিত।’
সম্প্রতি রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশে জেলাভিত্তিক ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। এই কেন্দ্রগুলিতে সেই সব বিদেশি নাগরিকদের রাখা হবে, যাঁদের বিরুদ্ধে ফরেনার্স অ্যাক্টে মামলা চলছে অথবা যাঁদের ডিপোর্টেশনের প্রক্রিয়া চলছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথমে ইংলিশ বাজারে এই ধরনের শিবির চালু করা হয়। এরপর এবার মুর্শিদাবাদের লালগোলাতেও পূর্ণমাত্রায় চালু হয়েছে নতুন হোল্ডিং সেন্টার।
লালগোলার বাহাদুরপুর পঞ্চায়েত এলাকার ‘পদ্মা ভবন’-এর তিন তলায় তৈরি হয়েছে এই বিশেষ কেন্দ্র। বর্তমানে সেখানে ৫ জন বাংলাদেশি নাগরিককে রাখা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। তাঁদের পরিচয়, নথিপত্র এবং প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখা হচ্ছে।