সিপিএমকে নজিরবিহীন আক্রমণ করলেন বিজেপি নেতা। আর তাঁর মন্তব্য নিয়ে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছে রাজ্য-রাজনীতিতে। রাজ্যে এখন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন আছেন। তিনি ইতিমধ্যেই পরামর্শ দিয়েছেন, দল এবং সরকারের মধ্যে যেন সমন্বয় রক্ষা করে চলা হয়। এই পরামর্শের পরও সিপিএমকে সামাজিক বয়কটের ডাক থেকে শুরু করে সিপিএম গোখরো সাপ। ফনা তুলতে এলে মাথায় ডান্ডা দিয়ে মেরে হাসপাতালে ভর্তি করার নিদান দিয়ে বিতর্ক তৈরি করলেন বিজেপি নেতা। কোনও রাজনৈতিক দলকে এভাবে আক্রমণ করতে পরামর্শ দেননি নীতিন নবীন। তাহলে এই বিজেপি নেতা এমন মন্তব্য করলেন কেমন করে? উঠছে প্রশ্ন।
এবার সিপিএমের উদ্দেশে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিলেন বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার নেতা। বামেদের গোখরো সাপের সঙ্গে তুলনা করে সামাজিক বয়কটের ডাক দিলেন উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ার নেতা কাশেম আলি। প্রকাশ্য জনসভায় সিপিএমকে ‘পাকিস্তানের দালাল’ বলতেও ছাড়েননি। বরং একের পর এক তোপ দেগেছেন বামপন্থীদের উদ্দেশে। রাজ্য বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার সহ-সভাপতি কাশেম আলি প্রকাশ্য বাদুড়িয়ায় সভা থেকে বলেন, ‘আগে বিরিয়ানির হাঁড়িতে লাল কাপড় বাঁধা ছিল। এই টুকরো টুকরো গ্যাংদের চিহ্নিত করুন। সিপিএম হচ্ছে গোখরো সাপ। এই গোখরো সাপকে ফণা তুলতে দিলেই ছোবল মারবে। এদের গণতান্ত্রিকভাবে মাথায় মারুন। মাথায় মেরে হাসপাতালে পাঠিয়ে দিন। যখনই আজাদির কথা বলবে হাতে ডান্ডা রাখবেন। ডান্ডা মেরে ঠান্ডা করে নেবেন।’
বিজেপি এখন পশ্চিমবঙ্গের সরকারে রয়েছে। সেখানে সকলকে নিয়ে চলতে হবে বলে বারবার নীচুতলার কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেখানে এমন মন্তব্যে এখন বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে। সেখানে বিজেপি নেতা কাশেম আলির তীব্র আক্রমণ, ‘এসব গোখরো সাপ দেখলে ছোবল মারার আগেই ওদের মাথায় ডান্ডা দিয়ে মারুন। আর হাসপাতালে পাঠিয়ে দিন। না হলে বস্তায় ভরে দিন। তারপর আমরা দেখে নেব। সিপিএমের সঙ্গে কোনও আপোষ নেই। সিপিএমকে সামাজিক বয়কট করুন। এদের সঙ্গে মিশবেন না। এদের একঘরে করে দিন। এদের সঙ্গে বসবেন না, বন্ধুত্ব করবেন না। লাল ফিরবে না। সিপিএম থেকে খুব সাবধান। সিপিএমের অস্তিত্ব আমরা মুছে দেব।’
তাছাড়া এখন রাজ্যে দুটি উপনির্বাচন রয়েছে। রেজিনগর এবং নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে। এই দুই কেন্দ্রের ভোটাররা কাশেম আলির বক্তব্য নিশ্চয়ই শুনেছেন। তাতে ভোটবাক্সে প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কাশেম আলির কড়া মন্তব্য, ‘সিপিএমকে কেউ বিশ্বাস করবেন না। সিপিএম পাকিস্তানের দালাল, এদের সঙ্গে মিশবেন না। রাষ্ট্রবাদীদের জলের মধ্যে বিষ খাইয়ে এরা মেরে দিতে পারে।’ এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে স্থানীয় সিপিএমের প্রবীণ নেতা অনিমেষ মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘ওদের তো আজাদি কথাটায় আপত্তি। আজাদি মানে স্বাধীনতা। সেটা আরএসএস-বিজেপির নীতিতে নেই। ওরা স্বাধীন মনোভাব চায় না। স্বাধীনতাকে ভয় পায়। তাই এত আপত্তি। ওঁকে মনে করিয়ে দিতে চাই, এমন কথা এখানে বছর কয়েক আগে তৃণমূলের জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকও বলতেন। তাঁর অবস্থা এখন কী হয়েছে, সবাই দেখছেন।’