পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডিতে স্বাস্থ্য আধিকারিককে হেনস্থার ঘটনায় নিজেদের চার নেতার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করল বিজেপি। ঘটনাকে ‘লজ্জাজনক’ আখ্যা দিয়ে অভিযুক্তদের শো-কজ নোটিস পাঠিয়েছে রাজ্য নেতৃত্ব। পাশাপাশি আপাতত তাঁদের দলীয় কাজ থেকেও বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত ১২ মে বাঘমুন্ডি ব্লকের পাথরডি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিককে ঘিরে বিক্ষোভ ও হেনস্থার অভিযোগ ওঠে কয়েকজন বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে। অভিযোগ, এলাকার প্রসূতিদের ভিন্রাজ্যের হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে কেন, সেই প্রশ্ন তুলে স্বাস্থ্য আধিকারিকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন তাঁরা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়।
বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব। শেষ পর্যন্ত দলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির সুপারিশে চার নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠানো হয়েছে। শো-কজ চিঠি পেয়েছেন পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সদস্য ও বাঘমুন্ডি ব্লকের বিজেপি আহ্বায়ক রাকেশ মাহাতো। পাশাপাশি ব্লকের সহ-আহ্বায়ক বিজয়মোহন সিংহ, মণ্ডল-৪ সভাপতি অরুণচন্দ্র মাঝি এবং যুব মোর্চার সভাপতি মিঠুন কুমারকেও নোটিস পাঠানো হয়েছে।
দলীয় চিঠিতে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য আধিকারিককে ভয় দেখানো, অকথ্য ভাষায় হুমকি, শারীরিক হেনস্থা এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তাঁদের বিরুদ্ধে, যা দলবিরোধী কাজের শামিল। রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যের নির্দেশে আপাতত তাঁদের সাংগঠনিক কাজ থেকে বিরত রাখা হয়েছে। সাত দিনের মধ্যে ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে অভিযুক্তদের। এ প্রসঙ্গে বিজেপির পুরুলিয়া জেলা সভাপতি শঙ্কর মাহাতো বলেছেন, এটি সম্পূর্ণ দলীয় বিষয় এবং রাজ্য নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করবেন না।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত নেতাদের কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চাননি। তবে রাকেশ মাহাতোর দাবি, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বেহাল পরিষেবা নিয়ে আলোচনা করতেই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য, উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হলেও কোনও হেনস্থার ঘটনা ঘটেনি। দল লিখিত ব্যাখ্যা চেয়েছে, তিনি তার জবাব দেবেন।