১৪৪ আসনে বিজেপির প্রার্থী তালিকা ঘোষণা, নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর দুই কেন্দ্রে লড়বেন শুভেন্দু

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

 আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম পর্যায়ের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে বিজেপি। প্রথম তালিকাতেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছে গেরুয়া শিবির। তার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত সিদ্ধান্ত হল— বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর দুই কেন্দ্র থেকেই প্রার্থী করা হয়েছে।

নন্দীগ্রাম দীর্ঘদিন ধরেই শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে ভবানীপুরও রাজ্য-রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ফলে এই দুই কেন্দ্র থেকে তাঁর লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।

এদিকে খড়গপুর সদর কেন্দ্র থেকেও ফের প্রার্থী করা হয়েছে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষকে। এই কেন্দ্রের সঙ্গে দিলীপ ঘোষের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পর্ক। এর আগেও তিনি এই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছিলেন। তাই পুরনো ঘাঁটি থেকেই তাঁকে ফের প্রার্থী করা বিজেপির কৌশলগত পদক্ষেপ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বরানগর থেকে প্রার্থী করা হয়েছে সজল ঘোষকে।

ভাটপাড়ায় বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিংয়ের ছেলে পবন সিং। হাওড়ার শিবপুর কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ। আসানসোল দক্ষিণে প্রার্থী করা হয়েছে অগ্নিমিত্রা পালকে। বাঁকুড়ার শালতোড়া কেন্দ্রে এ বারও প্রার্থী হচ্ছেন চন্দনা বাউড়ি। জলপাইগুড়ির ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি কেন্দ্রে এ বারেও প্রার্থী করা হয়েছে শিখা চট্টোপাধ্যায়কে। কোচবিহারের তুফানগঞ্জে ফের প্রার্থী হয়েছেন মালতী রাভা রায়।

সূত্রের খবর, গত সপ্তাহে দিল্লিতে বিজেপির প্রার্থী তালিকা নিয়ে বৈঠকে ভবানীপুর কেন্দ্র নিয়ে আলাদা করে শুভেন্দুর সঙ্গে আলোচনা করেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এরপর এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয় বিজেপি। সূত্রের খবর, ভোট ঘোষণার প্রায় ৭২ ঘণ্টা আগেই শুভেন্দু জানতে পারেন যে, ভবানীপুর থেকেও তাঁকেই প্রার্থী করতে চলেছে দল।


এবারের নির্বাচনে প্রথম দফায় ভোট হবে নন্দীগ্রামে এবং দ্বিতীয় দফায় ভবানীপুরে। ফলে নন্দীগ্রামে ভোট শেষ হওয়ার পর ভবানীপুরে প্রচারের জন্য অতিরিক্ত সময় পাবেন বলেই আশা করছেন শুভেন্দু। তবে কেন দুই কেন্দ্রে প্রার্থী করা হল শুভেন্দুকে? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, একজনকে দুই আসনে প্রার্থী করার মধ্যে দিয়ে বিজেপির সাংগঠনিক দুর্বলতাই প্রকাশ পেয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ভবানীপুরে শুভেন্দুর লড়াই রাজ্যের নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। যদিও বিজেপি আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী ঘোষণা করেনি, অনেকের মতে এই লড়াইয়ের মাধ্যমে শুভেন্দুই কার্যত দলের মুখ হয়ে উঠতে পারেন।