বাঁকুড়ায় উদ্ধার ৪ হাজার ফর্ম ৭, আটক ২ বিজেপি নেতা

এসআইআর আবহে নতুন এক রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়াল পশ্চিমবঙ্গে। বিজেপির গাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ৪ হাজার ফর্ম ৭। বাঁকুড়ার খাতড়ায় সিনেমা মোড়ে ঘটেছে এই ঘটনা। বিষয়টি নিয়ে এখন রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

প্রসঙ্গত, এসআইআর-এর নামে দীর্ঘদিন ধরে ভোটার তালিকা থেকে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্তের অভিযোগ তুলছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার এই ফর্ম উদ্ধারের ঘটনায় সেই অভিযোগে নতুন মাত্রা যুক্ত হল।

জানা গিয়েছে, স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের নজরদারি শেষে খাতড়ার সিনেমা মোড়ে সন্দেহজনক একটি গাড়ি থামানো হয়। তদন্তে দেখা যায়, গাড়িতে রাখা ছিল প্রায় ৪ হাজার ফর্ম ৭, যা ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার আবেদনপত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। গাড়িতে থাকা তিনজনের মধ্যে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে একজন হলেন তালডাংরা বিধানসভার বিবরদা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন মণ্ডল সভানেত্রী ঝুমা ঘোষের স্বামী প্রবীর ঘোষ।


এই ঘটনার পর মঙ্গলবার নবান্ন থেকে একটি সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদ্ধার হওয়া ফর্মগুলির ছবি দেখান এবং বলেন, ‘দেখুন, এটি আমার কাছে এসেছে। এভাবেই ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত করা হচ্ছে।’ তিনি আরও জানান, এই চক্রান্ত সাধারণ ভোট প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার পাশাপাশি প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ভোটাধিকারও ক্ষুণ্ণ করা হচ্ছে।

বাঁকুড়ার তৃণমূলের সাংগঠনিক জেলা সভাপতি তারাশঙ্কর রায় বলেন, ভোটের আগে পরিকল্পিতভাবে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। হাজার হাজার ফর্ম ৭ আগে থেকেই পূরণ করে গাড়িতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এটা সাধারণ ঘটনা নয়। নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের উচিত অবিলম্বে তদন্ত করা। রানিবাঁধের তৃণমূল বিধায়ক জোৎস্না মাণ্ডি বলেন, গণতন্ত্রকে দুর্বল করার চক্রান্ত স্পষ্ট। দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।

প্রসঙ্গত, ফর্ম ৭ ব্যবহার করা হয় ভোটার তালিকায় কোনও নাম অন্তর্ভুক্তি বা বাদ দেওয়ার জন্য। মৃত বা স্থানান্তরিত ব্যক্তির নাম তালিকা থেকে মুছে ফেলার জন্য এই ফর্ম পূরণ করা হয়। তৃণমূলের পক্ষ দাবি করছে, এই ফর্মগুলোর মাধ্যমে বিজেপি একটি সুপরিকল্পিতভাবে ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার কৌশল বাস্তবায়ন করছে।