প্রথম দফার ভোটগ্রহণে দিনভর মোটের উপর শান্তির ছবি দেখা গেলেও শেষ পর্যন্ত রাজ্যের একাধিক প্রান্তে অশান্তির ছায়া ঘনীভূত হল। বীরভূমের লাভপুর থেকে খয়রাশোল- দুই ক্ষেত্রেই উত্তেজনা চরমে পৌঁছান। রক্তাক্ত হন রাজনৈতিক কর্মী থেকে জওয়ান। লাভপুরে বিজেপি প্রার্থী দেবাশিস ওঝার নির্বাচনী এজেন্ট বিশ্বজিৎ মণ্ডলকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়।
সাঁইথিয়া থানার ভ্রমরকোল গ্রামে বুথ পরিদর্শন করে ফেরার পথে তাঁকে ঘিরে ধরে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। ইটের আঘাতে মাথা ফেটে যায় তাঁর। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিজেপির দাবি, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই এই হামলার সঙ্গে জড়িত। যদিও শাসকদল সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
অন্যদিকে, দিনের শেষলগ্নে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় খয়রাশোলের বুধপুর গ্রাম। ৬৫ নম্বর বুথে ইভিএমে কারচুপির অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা শুরু হয়। অভিযোগ, নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিলেও তা অন্য দলের প্রার্থীর পক্ষে চলে যাচ্ছে। এছাড়াও ভোটকর্মীদের চাপ দিয়ে ভোট বন্ধ করে দেওয়ারও অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ জনতা ভোট বন্ধের দাবি তোলে এবং পরিস্থিতি দ্রুত অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে গেলে নিরাপত্তারক্ষীদের লক্ষ্য করে শুরু হয় ইটবৃষ্টি। একাধিক গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। পালটা লাঠিচার্জ করে বাহিনী। সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন জওয়ান জখম হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
দিনের শুরুতে নির্বাচন কমিশন শান্তিপূর্ণ ভোটের আশ্বাস দিলেও বিকেল গড়াতেই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। বিশেষত মুর্শিদাবাদ, কোচবিহার ও বীরভূম জেলায় অশান্তির আশঙ্কা ছিল, যা শেষপর্যন্ত বাস্তবেও প্রতিফলিত হয়। বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ ও উত্তেজনার মধ্যেও ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া চলেছে। তবে একাধিক হিংসাত্মক ঘটনার জেরে প্রথম দফার ভোটে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।