ভোটগণনা চলাকালীনই রাজ্যের একাধিক জেলায় রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে উঠল। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, বিভিন্ন জায়গায় তাদের দলীয় কার্যালয়ে হামলা ও দখলদারির চেষ্টা চালাচ্ছেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা। যদিও সমস্ত অভিযোগই খারিজ করেছে বিজেপি।
সবচেয়ে বেশি উত্তেজনার ছবি সামনে এসেছে বাঁকুড়ার কোতুলপুর বিধানসভা কেন্দ্রের খিরি গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গণনার সপ্তম রাউন্ড শেষে বিজেপি প্রার্থী এগিয়ে থাকার খবর ছড়িয়ে পড়তেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, এরপরই একদল বিজেপি কর্মী-সমর্থক তৃণমূলের পার্টি অফিসে ঢুকে পড়েন।
কার্যালয়ের দেওয়ালে থাকা তৃণমূলের লেখা মুছে সেখানে বিজেপির প্রতীক আঁকা হয় এবং ভবনের ছাদে গেরুয়া পতাকা টাঙানো হয়। দখলের পর আবির খেলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতেও দেখা যায় বিজেপি সমর্থকদের একাংশকে।ফল ঘোষণার আগেই এই ধরনের ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্বের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে গণনা চলাকালীন দখলদারি চালানো হচ্ছে, যা এলাকায় অশান্তি বাড়াতে পারে।
অন্যদিকে বিজেপির দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে দখলদারির কোনও সম্পর্ক নেই। মানুষের রায় বিজেপির পক্ষে যাওয়ায় এটা কর্মী-সমর্থকদের স্বতঃস্ফূর্ত উচ্ছ্বাস। শুধু কোতুলপুর নয়, পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরে তৃণমূলের অফিসে আগুন লাগানোর অভিযোগও উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে একাধিক জায়গায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রশাসনের দাবি, পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সতর্ক নজর রাখা হচ্ছে। ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ অবশ্য এ রাজ্যে নতুন নয়। তবে গণনা শেষ হওয়ার আগেই এমন ঘটনা সামনে আসায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধছে।