বীরভূমের জেলা পরিষদের সভাধিপতি নির্বাচন কবে হবে? এই প্রশ্ন ছিল স্থানীয় মানুষজনের। কারণ জেলা পরিষদের সভাধিপতি থেকে সরে যান কাজল শেখ। তার পর থেকে স্থানীয় মানুষজন পরিষেবা সঠিকভাবে পাচ্ছে না বলে অভিযোগ। এই আবহে পুলিশ নিরাপত্তার অভাবের কারণ দর্শিয়ে স্থগিত হয়ে যায় বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি নির্বাচন। সেটা নিয়ে জেলার রাজনীতিতে বিস্তর গুঞ্জন এবং জলঘোলাও হয়। এবার সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বীরভূম জেলা পরিষদের নতুন সভাধিপতি নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করল জেলা প্রশাসন।
বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস পরাজিত হওয়ার পর দল ভেঙে খান খান হয়ে যায়। তারপর থেকে একাধিক গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি, জেলা পরিষদ এবং পুরসভাগুলি ভাঙতে শুরু করে। অনেকে আবার বিজেপিতে যোগ দিয়ে দেয়। এমনকী বিধায়কদের একটা বড় অংশ ভেঙে বিদ্রোহী শিবির হয়ে ওঠায় সেখানে ঝুঁকতে শুরু করেন অনেকে। তার ফলে সাধারণ মানুষ গ্রামবাংলায় পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হতে থাকে। এই আবহে বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি পদ থেকে ইস্তফা দেন কাজন শেখ। তারপর থেকেই কবে এই পদের নির্বাচন হবে তা নিয়ে কৌতূহল দেখাতে শুরু করেন সাধারণ মানুষ। এবার বীরভূম জেলা পরিষদের নির্বাচন হতে চলেছে আগামী ১৪ অক্টোবর। দুর্গাপুজোর মুখেই এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে।
এবার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। বীরভূমের জেলাশাসক ধবল জৈনের জারি করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী ১৪ অক্টোবর বেলা ১২টার সময় বীরভূম জেলা পরিষদের সভাকক্ষে নতুন সভাধিপতি নির্বাচন পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। এবার নিয়ম মেনেই নতুন করে দিনক্ষণ স্থির করা হয়েছে। জেলাশাসক ধবল জৈন জানান, নিয়ম অনুযায়ী পদ শূন্য হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যেই নতুন নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করতে হয়। ওই নিয়ম মেনেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। সব ঠিক থাকলেও আগামী ১৪ তারিখ কে ওই গুরুত্বপূর্ণ পদে বসবেন সেটা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, গতবার কাজল শেখের ইস্তফার পর ১৬ সেপ্টেম্বর নতুন সভাধিপতি নির্বাচনের দিনক্ষণ স্থির হয়েছিল। কিন্তু ওই নির্বাচনের ঠিক আগের দিন জেলা প্রশাসন পুলিশ ফোর্সের অভাবের কারণ দেখিয়ে হঠাৎই সেই প্রক্রিয়া স্থগিত করে দিয়েছিল। কারণ নিরাপত্তাজনিত অভাব। যা নিয়ে বিরোধীরা সরব হয়েছিল। তবে এবার দুর্গাপুজোর মুখে আগামী ১৪ তারিখ সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হয়, নাকি আবার থমকে যায় সেটাই এখন দেখার।